Dhaka ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জেলের জালে মিলল ৬ ফুট লম্বা অজগর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশার ধাক্কায় অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু নরসিংদীতে জগলুল কবির রিটনের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্তে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় গরু জব্দ, বিজিবির অভিযান জোরদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযান: ফ্যান-লাইট চললেও ৭ জনের ৬ জনই অনুপস্থিত বগুড়া সদরে ডিবির অভিযানে সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানা উচ্ছেদ, অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িগ্রামে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে জামায়াতের গণমিছিল নরসিংদীর মাধবদীতে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার সুনামগঞ্জে নারী ফুটবলার বনফুল বেগমকে হেনস্তা: এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার লালমনিরহাটে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতের গণমিছিল অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযান: ফ্যান-লাইট চললেও ৭ জনের ৬ জনই অনুপস্থিত

58 / 100 SEO Score
print news

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অফিস চলাকালীন সময়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক অনুপস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। কার্যালয়ে ফ্যান ও লাইট সচল থাকলেও দায়িত্বে থাকা সাতজন কর্মকর্তার মধ্যে ছয়জনকেই কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

আজ রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে জেলা কার্যালয়ে সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায়।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কক্ষের বাতি ও সিলিং ফ্যান সচল থাকলেও কক্ষগুলো সম্পূর্ণ জনশূন্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কার্যালয়ে মোট সাতটি পদ থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন কর্মচারী।

 

কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ছয়জনের মধ্যে তিনজন হলেন প্রথম সারির কর্মকর্তা। তারা হলেন— উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ, সহকারী পরিচালক খালিদ ইবনে সাদেক এবং পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান। বাকি তিনজন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন— নমুনা সংগ্রহকারী শাহাদাৎ হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইসারুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মো. রাসেল হুসাইন।

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান মুঠোফোনে দাবি করেন যে তিনি একটি বিশেষ অভিযানে বাইরে আছেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার মজলিশপুর ঋষিপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অভিযান বা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।

অফিস চলাকালীন সময়ে এমন গণ-অনুপস্থিতি এবং বিনা প্রয়োজনে বিদ্যুতের অপচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, ” বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।”

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দায়িত্বহীনতা ও অনুপস্থিতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবৈধ ইটভাটা স্থাপন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, জলাশয় ও পুকুর ভরাট এবং নিয়মবহির্ভূত রাইস মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে কি না— তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম, দায়িত্বহীনতা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জেলের জালে মিলল ৬ ফুট লম্বা অজগর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযান: ফ্যান-লাইট চললেও ৭ জনের ৬ জনই অনুপস্থিত

আপডেটের সময়: ০৪:৫৭:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
58 / 100 SEO Score
print news

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অফিস চলাকালীন সময়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক অনুপস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। কার্যালয়ে ফ্যান ও লাইট সচল থাকলেও দায়িত্বে থাকা সাতজন কর্মকর্তার মধ্যে ছয়জনকেই কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।

আজ রবিবার (২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে জেলা কার্যালয়ে সরেজমিনে এই চিত্র দেখা যায়।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কক্ষের বাতি ও সিলিং ফ্যান সচল থাকলেও কক্ষগুলো সম্পূর্ণ জনশূন্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই কার্যালয়ে মোট সাতটি পদ থাকলেও উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন কর্মচারী।

 

কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ছয়জনের মধ্যে তিনজন হলেন প্রথম সারির কর্মকর্তা। তারা হলেন— উপপরিচালক নাজিম হোসেন শেখ, সহকারী পরিচালক খালিদ ইবনে সাদেক এবং পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান। বাকি তিনজন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছেন— নমুনা সংগ্রহকারী শাহাদাৎ হোসেন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ইসারুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মো. রাসেল হুসাইন।

 

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরিদর্শক মো. রাখিবুল হাসান মুঠোফোনে দাবি করেন যে তিনি একটি বিশেষ অভিযানে বাইরে আছেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার মজলিশপুর ঋষিপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অভিযান বা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।

অফিস চলাকালীন সময়ে এমন গণ-অনুপস্থিতি এবং বিনা প্রয়োজনে বিদ্যুতের অপচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, ” বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।”

 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন দায়িত্বহীনতা ও অনুপস্থিতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবৈধ ইটভাটা স্থাপন, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, জলাশয় ও পুকুর ভরাট এবং নিয়মবহির্ভূত রাইস মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারছে কি না— তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া ছাড়পত্র প্রদান প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত আইন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংশয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম, দায়িত্বহীনতা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে।