Dhaka ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

মাদারীপুরে খাল খননের অভাবে কৃষকের দুর্ভোগ চরমে

print news

নাজমুল হাসান–মাদারীপুর◼️

 

মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় হাজারো কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি বর্তমানে পলি পড়ে ভরাট হয়ে পড়েছে। ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, চাষের মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণ মণ্ডলের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে হাজরাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি এক সময় ছিল জীবনের অন্যতম নির্ভরতা। এখন সেই খাল পরিণত হয়েছে পাকা ধানের ক্ষেতের মতো। কোথাও কোথাও উঁচু নিচু জমি আর আবর্জনায় ঢেকে গেছে খালের মুখ। অনেকেই আবার ব্যক্তিগতভাবে বাঁধ দিয়ে দিয়েছেন। এতে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

হাজরাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আকন বলেন, আমরা কৃষিকাজের জন্য খালের পানির ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এখন পানিই নেই। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে পাট জাগ দেওয়ার জন্যও পানি পাই না।

পশ্চিম রাস্তি গ্রামের স্বপন মণ্ডল জানান, খালের একপাশ উঁচু আর অন্যপাশ নিচু হওয়ায় পানি আটকে যাচ্ছে। খনন ছাড়া কোনো সমাধান নেই।

রাস্তি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মাওলা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি সংস্কার করা হয়নি। এখনই সময় ব্যবস্থা নেওয়ার।

এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, খালটি এলজিইডির আওতায় থাকলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান জানিয়েছেন, কৃষকদের সমস্যা বিবেচনায় খালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বরাদ্দ এবং প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

কৃষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হোক। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতি ও কৃষকদের আর্থিক দুরবস্থা আরও প্রকট হবে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

মাদারীপুরে খাল খননের অভাবে কৃষকের দুর্ভোগ চরমে

আপডেটের সময়: ০৬:১৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
print news

নাজমুল হাসান–মাদারীপুর◼️

 

মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় হাজারো কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি বর্তমানে পলি পড়ে ভরাট হয়ে পড়েছে। ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, চাষের মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নারায়ণ মণ্ডলের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে হাজরাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা মুন্সির বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি এক সময় ছিল জীবনের অন্যতম নির্ভরতা। এখন সেই খাল পরিণত হয়েছে পাকা ধানের ক্ষেতের মতো। কোথাও কোথাও উঁচু নিচু জমি আর আবর্জনায় ঢেকে গেছে খালের মুখ। অনেকেই আবার ব্যক্তিগতভাবে বাঁধ দিয়ে দিয়েছেন। এতে পানির প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

হাজরাপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আকন বলেন, আমরা কৃষিকাজের জন্য খালের পানির ওপর নির্ভর করি। কিন্তু এখন পানিই নেই। বর্ষার সময় বৃষ্টির পানি জমে থাকে, আর শুষ্ক মৌসুমে পাট জাগ দেওয়ার জন্যও পানি পাই না।

পশ্চিম রাস্তি গ্রামের স্বপন মণ্ডল জানান, খালের একপাশ উঁচু আর অন্যপাশ নিচু হওয়ায় পানি আটকে যাচ্ছে। খনন ছাড়া কোনো সমাধান নেই।

রাস্তি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মাওলা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটি সংস্কার করা হয়নি। এখনই সময় ব্যবস্থা নেওয়ার।

এ বিষয়ে মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, খালটি এলজিইডির আওতায় থাকলে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান জানিয়েছেন, কৃষকদের সমস্যা বিবেচনায় খালটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বরাদ্দ এবং প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়টি নির্ভর করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

কৃষকদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হোক। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফসলের ক্ষতি ও কৃষকদের আর্থিক দুরবস্থা আরও প্রকট হবে।