
◼️মো: রিয়াজ–শেরপুর জেলা
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় রানীশিমুল ইউনিয়নের হাসধরা গ্রামে এক নারীর গোসলের গোপন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই শ্রীবরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগে বাদী মো: রুমান মিয়া, পিতা- ঝালু মিয়া, গ্রাম হাসধরা আকন্দবাড়ী, উল্লেখ করেন, তার ছোট বোনের গোসলের সময় একই গ্রামের দুই যুবক—মোঃ সাইম মিয়া ও মোঃ আরিফ মিয়া—গোপনে ভিডিও ধারণ করেন। এরপর তারা সেই ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা হয় এবং অভিযুক্তরা ভুল স্বীকার করে ভিডিও না ছড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু কিছুদিন পর অভিযুক্তরা পুনরায় টাকা দাবি করে এবং প্রস্তাব না মানায় ‘Neon Islam Arif’ নামসহ একাধিক ফেসবুক আইডি দিয়ে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া ইমু ও টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আরও ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বাদীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা ঝালু মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের সাথে যা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমরা গরিব, কিন্তু ইজ্জতের মূল্য সবাই জানে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, এমন জঘন্য কাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
বাদী রুমান মিয়ার দাবি, “এরা এলাকার দাঙ্গাবাজ, সুযোগ পেলেই মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করে। আমরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা চাই।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি বাড়ির গোসলখানায় গোসল করছিল। সেই সময় গোপনে ভিডিও করে তা অনলাইনে ছড়ানো হয়, যা শুধু অপরাধ নয়, মানবতারও অবমাননা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ বলেন, “যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে এটি নারীর প্রতি চরম সহিংসতা। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছে।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 















