
◼️মাহবুব আলম–কাফরুল
আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন আইন ২০২৫’ আজ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন এ আইন কার্যকর হলে পুলিশের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, বিচার প্রক্রিয়ায় গতি এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ আইনে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডের নিয়মে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। এখন থেকে পুলিশকে গ্রেপ্তারের সময় অবশ্যই নিজের পরিচয় জানাতে হবে এবং ‘মেমোরেন্ডাম অব অ্যারেস্ট’ পূরণ করতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সব আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হয়েছে কি না, তার একটি নির্দিষ্ট চেকলিস্টও ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
সংবিধিবদ্ধ ৫৪ ধারার ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে এবার পুলিশের সামনে অপরাধ সংগঠিত হতে হবে অথবা নির্দিষ্টভাবে সন্তুষ্ট হতে হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ করেছে। সেই সন্তুষ্টির কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে পুলিশকে।
গ্রেপ্তারের পর পরিবারকে দ্রুত জানাতে হবে, সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২ ঘণ্টা। পাশাপাশি আসামিকে আইনজীবীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। রিমান্ডের সময় বা পরবর্তী সময়ে যদি আসামি অসুস্থ বা আহত হয়, তাকে চিকিৎসা করাতে হবে এবং কীভাবে আঘাত পেয়েছে, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। যদি পুলিশের দায় প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কোনো সংস্থা গ্রেপ্তার করলেও তা সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রতিদিনের গ্রেপ্তারের তালিকা থানাসহ জেলা বা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রকাশ করতে হবে।
সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষায় আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারবে এবং আদালত চাইলে সাক্ষীর খরচ বহনের ব্যবস্থাও করতে পারবে।
একই মামলায় পুলিশ রিমান্ডের মেয়াদ এখন থেকে ১৫ দিনের বেশি হতে পারবে না। আগে এ সীমা নির্দিষ্ট ছিল না, যার অপব্যবহার অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
এছাড়াও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনা প্রমাণিত হলে বাধ্যতামূলক সাজা ও সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংশোধনী বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে, মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থাও বাড়বে।
প্রতিবেদকের নাম 
















