Dhaka ১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্র্যাকের নাম ভাঙিয়ে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ১ বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বগুড়ার কাহালুতে চাঞ্চল্যকর দাদা-শ্বশুর হত্যা মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিক্ষোভ দিনাজপুর-২ আসনে শিক্ষা খাতে ৬ কোটির বরাদ্দ মাদক ও ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়তে ডাব্লুএসএফসির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ বাবার বাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার ভাঙন ও বন্যা কবলিতদের পাশে প্রশাসন ট্রেনে কাটা পড়া তরুণের পরিবারের পাশে প্রশাসন

কেসিসিতে নিয়োগ বাণিজ্য: কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবসরে যাওয়ার ফন্দি

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপডেটের সময়: ০৭:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫৫ সময় দেখুন

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামানের বিরুদ্ধে। চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর এবার সব ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্বিঘ্নে অবসরে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে তার এই চাতুর্য রুখে দিতে নড়েচড়ে বসেছে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেসিসির বিভিন্ন শূন্য পদে চাকরি দেওয়ার নামে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৭০ হাজার থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন নাঈমুজ্জামান। তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এর মধ্যে ভুক্তভোগী ভারতী মণ্ডল তার ছেলের চাকরির আশায় নিজের পেনশনের ১৮ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন নাঈমুজ্জামানের হাতে। একইভাবে উচ্চমান সহকারী পদের লোভ দেখিয়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর চাকরি তো দেওয়া হয়নি, উল্টো পাওনা টাকা চাইলে তাদের ভুয়া চেক ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাহাদাৎ হোসেনের দেওয়া চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নাঈমুজ্জামান বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে পড়ে অপরাধ আড়াল করতে গত জুন মাসে তড়িঘড়ি করে ‘স্বেচ্ছায় অবসরের’ (ভিআরএস) আবেদন জমা দেন নাঈমুজ্জামান। উদ্দেশ্য—প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটিসহ বিপুল অংকের সরকারি সুবিধা নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া। এমনকি প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আত্মীয়দেরও প্রতারণা করতে ছাড়েননি তিনি।
এ বিষয়ে কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে। তার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। যতক্ষণ না এই অভিযোগের সুরাহা হচ্ছে, ততক্ষণ তার অবসরের আবেদন বা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।”
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অভিযুক্ত মো. নাঈমুজ্জামান মুঠোফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। কেসিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দিনের পর দিন এ ধরনের প্রকাশ্য নিয়োগ বাণিজ্য কীভাবে চলল, তা নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবল বিভাগীয় মামলা নয়, প্রতারক নাঈমুজ্জামানকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম

কেসিসিতে নিয়োগ বাণিজ্য: কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবসরে যাওয়ার ফন্দি

আপডেটের সময়: ০৭:০১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনিক শাখার প্রধান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামানের বিরুদ্ধে। চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর এবার সব ধরনের সরকারি আর্থিক সুবিধা নিয়ে নির্বিঘ্নে অবসরে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে তার এই চাতুর্য রুখে দিতে নড়েচড়ে বসেছে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেসিসির বিভিন্ন শূন্য পদে চাকরি দেওয়ার নামে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন প্রার্থীর কাছ থেকে ৭০ হাজার থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন নাঈমুজ্জামান। তার প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা।
এর মধ্যে ভুক্তভোগী ভারতী মণ্ডল তার ছেলের চাকরির আশায় নিজের পেনশনের ১৮ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন নাঈমুজ্জামানের হাতে। একইভাবে উচ্চমান সহকারী পদের লোভ দেখিয়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর চাকরি তো দেওয়া হয়নি, উল্টো পাওনা টাকা চাইলে তাদের ভুয়া চেক ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাহাদাৎ হোসেনের দেওয়া চেকগুলো ব্যাংকে ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নাঈমুজ্জামান বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
চাকরিপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে পড়ে অপরাধ আড়াল করতে গত জুন মাসে তড়িঘড়ি করে ‘স্বেচ্ছায় অবসরের’ (ভিআরএস) আবেদন জমা দেন নাঈমুজ্জামান। উদ্দেশ্য—প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটিসহ বিপুল অংকের সরকারি সুবিধা নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া। এমনকি প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের আত্মীয়দেরও প্রতারণা করতে ছাড়েননি তিনি।
এ বিষয়ে কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা মিলেছে। তার বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহেই বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে। যতক্ষণ না এই অভিযোগের সুরাহা হচ্ছে, ততক্ষণ তার অবসরের আবেদন বা কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।”
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অভিযুক্ত মো. নাঈমুজ্জামান মুঠোফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন। কেসিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দিনের পর দিন এ ধরনের প্রকাশ্য নিয়োগ বাণিজ্য কীভাবে চলল, তা নিয়ে নগরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কেবল বিভাগীয় মামলা নয়, প্রতারক নাঈমুজ্জামানকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।