Dhaka ১২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ব্র্যাকের নাম ভাঙিয়ে ঋণ দেওয়ার নামে প্রতারণা, আটক ১ বগুড়ার শিবগঞ্জে ১৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার বগুড়ার কাহালুতে চাঞ্চল্যকর দাদা-শ্বশুর হত্যা মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার বিএমডিসি নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের বিক্ষোভ দিনাজপুর-২ আসনে শিক্ষা খাতে ৬ কোটির বরাদ্দ মাদক ও ধূমপানমুক্ত সমাজ গড়তে ডাব্লুএসএফসির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ বাবার বাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: রহস্য ঘিরে চাঞ্চল্য কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার ভাঙন ও বন্যা কবলিতদের পাশে প্রশাসন ট্রেনে কাটা পড়া তরুণের পরিবারের পাশে প্রশাসন

ভাত চাওয়াই ছেলের হাতে বৃদ্ধা মা নির্যাতন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০২:১২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩
  • ২৮২ সময় দেখুন

শরিফ আহম্মেদ চাঁদ,হরিণাকুন্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আখিরন নেছা। তাঁর হাত, পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত। মানুষ গেলেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন এই বৃদ্ধা। চোখেমুখে আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ। কী হয়েছে জানতে চাইলে তাঁর চোখ দুটো বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপরে ভাত খেতে চাওয়ায় ছেলে মন্টু মণ্ডল মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আখিরন নেছা ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মৃত মঙ্গল মণ্ডলের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, বিধবা আখিরন নেছার তিন ছেলে। ছোট ছেলে সেন্টু মণ্ডল মারা গেছেন এক বছর আগে। বড় ছেলে ঠান্ডু মণ্ডল অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। মেজো ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু মণ্ডল পেশায় কৃষক। ছেলেদের সংসারে পালাক্রমে ১৫ দিন করে থাকেন আখিরন নেছা। বছরখানেক আগে বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে যায়। আজও জোড়া লাগেনি ভাঙা পায়ের হাড়। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৩ বছর আগে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, আখিরন নেছার নামে রয়েছে আট বিঘা জমি। এই জমি লিখে দিতে চাপ দেয় মেজো ছেলে মন্টু মণ্ডল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। বুধবার দুপুরে মায়ের খাওয়ার খোঁজও নেয়নি তারা। ক্ষুধার্ত আখিরন নেছা খাবার চাইলে ক্ষীপ্ত হয়ে তাঁকে গালাগালি করে মন্টু মণ্ডল। এক পর্যায়ে মন্টু ও তার স্ত্রী তারা খাতুন আখের খণ্ড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করে।
ইউপি সদস্য বসির উদ্দিন দৈনিক ক্রাইম তালাশ কে জানান, সন্তানের আঘাতে রক্তাক্ত মাকে দেখতেও আসেনি তাঁর সন্তানরা। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি। পরে খবর পেয়ে পল্লিচিকিৎসক ডেকে এনে চিকিৎসা করান চেয়ারম্যান।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া বলেন, ভাত খেতে চাওয়ায় শতবর্ষী মাকে এভাবে মারধর করা খুবই মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক।
এ ঘটনার পর আখিরন নেছার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে প্রায়ই এমন আচরণ করে তাঁর ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু। ঠিকমতো খেতেও দেয় না। তিনি অসুস্থ্য, চিকিৎসাও করায় না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোয়ার হোসেন মন্টুর দাবি, মাকে মারধর করা হয়নি। উঠানে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আবু আজিফ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৪৫ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ, আমার নাম ভাঙিয়ে ছাড় নেই: এমপি ডা. সালাম

ভাত চাওয়াই ছেলের হাতে বৃদ্ধা মা নির্যাতন

আপডেটের সময়: ০২:১২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ নভেম্বর ২০২৩

শরিফ আহম্মেদ চাঁদ,হরিণাকুন্ডু (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধিঃ বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আখিরন নেছা। তাঁর হাত, পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত। মানুষ গেলেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন এই বৃদ্ধা। চোখেমুখে আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ। কী হয়েছে জানতে চাইলে তাঁর চোখ দুটো বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। বুধবার দুপরে ভাত খেতে চাওয়ায় ছেলে মন্টু মণ্ডল মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। আখিরন নেছা ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মৃত মঙ্গল মণ্ডলের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, বিধবা আখিরন নেছার তিন ছেলে। ছোট ছেলে সেন্টু মণ্ডল মারা গেছেন এক বছর আগে। বড় ছেলে ঠান্ডু মণ্ডল অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। মেজো ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু মণ্ডল পেশায় কৃষক। ছেলেদের সংসারে পালাক্রমে ১৫ দিন করে থাকেন আখিরন নেছা। বছরখানেক আগে বারান্দা থেকে পড়ে গিয়ে ডান পা ভেঙে যায়। আজও জোড়া লাগেনি ভাঙা পায়ের হাড়। তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। স্বামী মারা গেছেন প্রায় ২৩ বছর আগে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, আখিরন নেছার নামে রয়েছে আট বিঘা জমি। এই জমি লিখে দিতে চাপ দেয় মেজো ছেলে মন্টু মণ্ডল। এ নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। বুধবার দুপুরে মায়ের খাওয়ার খোঁজও নেয়নি তারা। ক্ষুধার্ত আখিরন নেছা খাবার চাইলে ক্ষীপ্ত হয়ে তাঁকে গালাগালি করে মন্টু মণ্ডল। এক পর্যায়ে মন্টু ও তার স্ত্রী তারা খাতুন আখের খণ্ড ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করে।
ইউপি সদস্য বসির উদ্দিন দৈনিক ক্রাইম তালাশ কে জানান, সন্তানের আঘাতে রক্তাক্ত মাকে দেখতেও আসেনি তাঁর সন্তানরা। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি। পরে খবর পেয়ে পল্লিচিকিৎসক ডেকে এনে চিকিৎসা করান চেয়ারম্যান।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবু মিয়া বলেন, ভাত খেতে চাওয়ায় শতবর্ষী মাকে এভাবে মারধর করা খুবই মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক।
এ ঘটনার পর আখিরন নেছার বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে প্রায়ই এমন আচরণ করে তাঁর ছেলে মনোয়ার হোসেন মন্টু। ঠিকমতো খেতেও দেয় না। তিনি অসুস্থ্য, চিকিৎসাও করায় না। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনোয়ার হোসেন মন্টুর দাবি, মাকে মারধর করা হয়নি। উঠানে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আবু আজিফ বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’