Dhaka ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ, গ্রেফতার ১ তেজগাঁও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে ৬৫ জন গ্রেফতার ৫০ পিস ইয়াবাসহ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আটক মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে আইইডি সদৃশ বস্তু উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ বগুড়ায় মাদকসহ ৬ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি বিজয়নগরের আহসান উল্লাহ, শ্রেষ্ঠ এসআই মাহবুবুল অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান, পুলিশ-জনগণের মতবিনিময় রাজধানীর মুগদা থানায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ২২

এক হাতে দায়িত্ব, আরেক হাতে দাওয়াত:রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী কুরআন-জীবন

print news

মোঃ মোশারফ হোসেন– নেত্রকোনা সদর◾

 

সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার, প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই সবকিছুই আজ সমাজে মর্যাদার প্রতীক। যেখানে অনেকেই এসব ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল জীবন, সেখানে ব্যতিক্রম এক নাম রায়হানুল হক।

 

বর্তমানে তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার। একইসঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবেও। প্রশাসনিক এসব পরিচয়ের আড়ালে তাঁর আরেকটি পরিচয়, যা দিন দিন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে—তিনি একজন আত্মনিবেদিত দাঈ, কুরআনের এক নিষ্ঠাবান আহ্বায়ক।

 

রায়হানুল হক নিজেকে কখনো বড় কিছু ভাবেন না। তাঁর কথায়, “আমার আসল পরিচয় আমি আল্লাহর এক বান্দা, আর দায়িত্ব হলো দাওয়াত দেওয়া—নিজে নামাজে অটল থাকা এবং অন্যদেরও ডাক দেওয়া।”

 

দিনভর সরকারি দায়িত্ব পালন করেও তিনি প্রতিনিয়ত সময় বের করেন মানুষের কাছে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে। এলাকার তরুণদের নিয়ে বসে যান আলোচনা চক্রে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া মক্তব পুনরুদ্ধারে কাজ করেন।

 

এই সময়েও, যখন সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন একজন কৃষি অফিসারের এভাবে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ বিরল এক দৃষ্টান্ত।

 

রায়হানুল হকের জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা, নেই পদমর্যাদার অহংকার। তাঁর জীবন সাদামাটা, তবে চিন্তা-মেধা-আচরণে এক আলোকিত মানুষ। সততা, নম্রতা ও আত্মশুদ্ধির এক বাস্তব উদাহরণ তিনি।

 

তিনি মনে করেন, “দাওয়াত শুধু আলেমদের কাজ নয়, প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব। আমি সরকারি কর্মকর্তা হয়েছি—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব, আর কুরআনের দাওয়াত আমার আত্মিক দায়িত্ব।”

 

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রশাসনের চেয়ারে বসেও চেষ্টা করেন সমাজের অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে। তাঁর মিশন—মানুষকে নামাজে ফেরানো, কুরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, আর আমাদের প্রজন্মকে ইসলামি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা।

 

তিনি প্রমাণ করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তাও হতে পারেন সমাজ বদলের শক্তি—যদি তাঁর অন্তরে থাকে আল্লাহর ভয়, কুরআনের আলো এবং একটুখানি আন্তরিকতা।

 

রায়হানুল হক আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন—প্রশাসনের চেয়ারে থেকেও একজন আলেমের মতো জীবন যাপন করা সম্ভব, যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন।

 

এক হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অন্য হাতে কুরআনের দাওয়াত—এই দুইয়ের ভার একসাথে যিনি বহন করছেন নীরবে, নিঃশব্দে, তিনি আজকের সময়ের এক আলোকবর্তিকা।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

এক হাতে দায়িত্ব, আরেক হাতে দাওয়াত:রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী কুরআন-জীবন

আপডেটের সময়: ০৫:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
print news

মোঃ মোশারফ হোসেন– নেত্রকোনা সদর◾

 

সরকারি চাকরি, বিসিএস ক্যাডার, প্রশাসনিক দায়িত্ব—এই সবকিছুই আজ সমাজে মর্যাদার প্রতীক। যেখানে অনেকেই এসব ব্যবহার করে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল জীবন, সেখানে ব্যতিক্রম এক নাম রায়হানুল হক।

 

বর্তমানে তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার। একইসঙ্গে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চন্ডিগড় ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবেও। প্রশাসনিক এসব পরিচয়ের আড়ালে তাঁর আরেকটি পরিচয়, যা দিন দিন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে—তিনি একজন আত্মনিবেদিত দাঈ, কুরআনের এক নিষ্ঠাবান আহ্বায়ক।

 

রায়হানুল হক নিজেকে কখনো বড় কিছু ভাবেন না। তাঁর কথায়, “আমার আসল পরিচয় আমি আল্লাহর এক বান্দা, আর দায়িত্ব হলো দাওয়াত দেওয়া—নিজে নামাজে অটল থাকা এবং অন্যদেরও ডাক দেওয়া।”

 

দিনভর সরকারি দায়িত্ব পালন করেও তিনি প্রতিনিয়ত সময় বের করেন মানুষের কাছে কুরআনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে। এলাকার তরুণদের নিয়ে বসে যান আলোচনা চক্রে, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের পাশে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যাওয়া মক্তব পুনরুদ্ধারে কাজ করেন।

 

এই সময়েও, যখন সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, তখন একজন কৃষি অফিসারের এভাবে ইসলামের খেদমতে আত্মনিয়োগ বিরল এক দৃষ্টান্ত।

 

রায়হানুল হকের জীবনে নেই কোনো বিলাসিতা, নেই পদমর্যাদার অহংকার। তাঁর জীবন সাদামাটা, তবে চিন্তা-মেধা-আচরণে এক আলোকিত মানুষ। সততা, নম্রতা ও আত্মশুদ্ধির এক বাস্তব উদাহরণ তিনি।

 

তিনি মনে করেন, “দাওয়াত শুধু আলেমদের কাজ নয়, প্রত্যেক সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব। আমি সরকারি কর্মকর্তা হয়েছি—এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দায়িত্ব, আর কুরআনের দাওয়াত আমার আত্মিক দায়িত্ব।”

 

এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রশাসনের চেয়ারে বসেও চেষ্টা করেন সমাজের অন্তরের পরিবর্তন ঘটাতে। তাঁর মিশন—মানুষকে নামাজে ফেরানো, কুরআনের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, আর আমাদের প্রজন্মকে ইসলামি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা।

 

তিনি প্রমাণ করছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তাও হতে পারেন সমাজ বদলের শক্তি—যদি তাঁর অন্তরে থাকে আল্লাহর ভয়, কুরআনের আলো এবং একটুখানি আন্তরিকতা।

 

রায়হানুল হক আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন—প্রশাসনের চেয়ারে থেকেও একজন আলেমের মতো জীবন যাপন করা সম্ভব, যদি আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন।

 

এক হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব, অন্য হাতে কুরআনের দাওয়াত—এই দুইয়ের ভার একসাথে যিনি বহন করছেন নীরবে, নিঃশব্দে, তিনি আজকের সময়ের এক আলোকবর্তিকা।