Dhaka ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসক বদলি ও নৈশপ্রহরী বরখাস্ত সুনামগঞ্জে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় যুবক আটক বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় চুরি হওয়া R15 মোটরসাইকেল কুড়িগ্রাম ও রংপুরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ সুনামগঞ্জে উকিলপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক সম্পন্ন মাদকের অভিযোগে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ এর ৪ সদস্য বহিষ্কার ও কারাগারে নরসিংদীতে সাঁড়াশি অভিযান, ১৮ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ, গ্রেফতার ১

চার সন্তানই শিক্ষক: তিন দশকের আলোর ফেরিওয়ালা নেত্রকোনার ফজলুল হক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • ৫৭৩ সময় দেখুন
print news

মোঃ আজিজুল হক- দুর্গাপুর প্রতিনিধি (নেত্রকোনা)

 

বাবা-মা’র পরে যিনি একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন, তিনি হলেন শিক্ষক। আর এমনই একজন শিক্ষক নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া মফস্বল ইউনিয়নের হাজী মো. ফজলুল হক—যিনি শুধু শিক্ষক নন, ছিলেন আলোর দিশারী।

 

তার শিক্ষাদানে বেড়ে উঠেছে শত শত শিক্ষার্থী। অনেকেই আজ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে, ব্যাংকে, প্রশাসনে এবং বিভিন্ন পেশায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু যাদের সাফল্যের নেপথ্যে ছিলেন তিনি, তারা আজও ভালোবাসায় স্মরণ করেন প্রিয় শিক্ষক ফজলুল হককে।

 

তার জীবনের বড় অংশ কেটেছে শিক্ষকতা করে। বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের বাইরে, নিজ বাড়িতে বিনামূল্যে গরীব-মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন তিনি। অনেকের পড়াশোনার খরচও বহন করেছেন নিজ হাতে। শুধু পাঠ্যবই নয়, তাদের গড়েছেন নীতিনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে।

 

রংপুরে কর্মরত এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “ফজলুল হক স্যার ছিলেন আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এমন শিক্ষক এখন দুর্লভ। উনার মতো মানুষ আগামী একশো বছরেও পাওয়া কঠিন।”

 

শুধু ছাত্রছাত্রীই নয়, নিজের চার সন্তানকেও তিনি গড়েছেন শিক্ষার পথে। চারজনই এখন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। পিতার আদর্শ ও সেবামূলক মনোভাব দেখে তার সন্তানেরাও শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এই দৃষ্টান্ত আজ অনেক পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণা।

 

নেত্রকোনা জেলার শিক্ষাঙ্গনে তার অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি যেমন পাঠদান করেছেন, তেমনি নীরবে গড়ে তুলেছেন এক আলোকিত প্রজন্ম। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত হলেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে।

 

এক ছাত্রী বলেন, “স্যার আমাদের শুধু পড়াননি, মানুষ হতে শিখিয়েছেন। আজীবন তার কাছে ঋণী থাকবো। সেলুট হে প্রিয় শিক্ষক!”

 

তার মতো আদর্শবান, মানবিক শিক্ষক সমাজে আজও অনুকরণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সাদা-মাটা গ্রামীণ শিক্ষকও হাজারো জীবন আলোকিত করতে পারেন। তাঁর অবদান যতটা নিঃশব্দ, ততটাই গভীর।

 

ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর একটাই প্রার্থনা—এই প্রিয় মানুষটির নেক হায়াত ও দীর্ঘায়ু হোক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

চার সন্তানই শিক্ষক: তিন দশকের আলোর ফেরিওয়ালা নেত্রকোনার ফজলুল হক

আপডেটের সময়: ০৪:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
print news

মোঃ আজিজুল হক- দুর্গাপুর প্রতিনিধি (নেত্রকোনা)

 

বাবা-মা’র পরে যিনি একজন মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন, তিনি হলেন শিক্ষক। আর এমনই একজন শিক্ষক নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া মফস্বল ইউনিয়নের হাজী মো. ফজলুল হক—যিনি শুধু শিক্ষক নন, ছিলেন আলোর দিশারী।

 

তার শিক্ষাদানে বেড়ে উঠেছে শত শত শিক্ষার্থী। অনেকেই আজ দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে, ব্যাংকে, প্রশাসনে এবং বিভিন্ন পেশায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। কিন্তু যাদের সাফল্যের নেপথ্যে ছিলেন তিনি, তারা আজও ভালোবাসায় স্মরণ করেন প্রিয় শিক্ষক ফজলুল হককে।

 

তার জীবনের বড় অংশ কেটেছে শিক্ষকতা করে। বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের বাইরে, নিজ বাড়িতে বিনামূল্যে গরীব-মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন তিনি। অনেকের পড়াশোনার খরচও বহন করেছেন নিজ হাতে। শুধু পাঠ্যবই নয়, তাদের গড়েছেন নীতিনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে।

 

রংপুরে কর্মরত এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, “ফজলুল হক স্যার ছিলেন আমাদের জন্য আশীর্বাদ। এমন শিক্ষক এখন দুর্লভ। উনার মতো মানুষ আগামী একশো বছরেও পাওয়া কঠিন।”

 

শুধু ছাত্রছাত্রীই নয়, নিজের চার সন্তানকেও তিনি গড়েছেন শিক্ষার পথে। চারজনই এখন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। পিতার আদর্শ ও সেবামূলক মনোভাব দেখে তার সন্তানেরাও শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এই দৃষ্টান্ত আজ অনেক পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণা।

 

নেত্রকোনা জেলার শিক্ষাঙ্গনে তার অবদান অনস্বীকার্য। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি যেমন পাঠদান করেছেন, তেমনি নীরবে গড়ে তুলেছেন এক আলোকিত প্রজন্ম। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত হলেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে।

 

এক ছাত্রী বলেন, “স্যার আমাদের শুধু পড়াননি, মানুষ হতে শিখিয়েছেন। আজীবন তার কাছে ঋণী থাকবো। সেলুট হে প্রিয় শিক্ষক!”

 

তার মতো আদর্শবান, মানবিক শিক্ষক সমাজে আজও অনুকরণীয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন সাদা-মাটা গ্রামীণ শিক্ষকও হাজারো জীবন আলোকিত করতে পারেন। তাঁর অবদান যতটা নিঃশব্দ, ততটাই গভীর।

 

ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর একটাই প্রার্থনা—এই প্রিয় মানুষটির নেক হায়াত ও দীর্ঘায়ু হোক।