
সমাজ থেকে মাদক ও কিশোর অপরাধ নির্মূলে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং মাদক কারবারিদের বাসস্থানে ‘লাল চিহ্ন’ চিহ্নিত করার কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে সদর থানাধীন কাজীপাড়া পৌর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম, র্যাব-৯ (সিপিসি-১) কোম্পানি কমান্ডার মোড় নূরনবী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাজেদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব জহিরুল হক খোকন, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান মোল্লা (কচি), এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রমুখ। এছাড়া জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। তিনি ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন, কিশোর অপরাধ রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি মসজিদের ইমামের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচার চালানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি উদ্যোগে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদক স্পট, সেবনকারী ও কারবারিদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে উল্লেখ করে তিনি সরাসরি তার সরকারি মোবাইল নাম্বারে তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানান। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং জোরদার করার পাশাপাশি অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকার জন্য তরুণ সমাজের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম জানান, মাদকসেবী ও কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট ও চিহ্নিত করতে তাদের বাসভবনে ‘লাল চিহ্ন’ প্রদান করা হবে, যা মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা আরও বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।
সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে একটি মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 


















