
নরসিংদীর মাধবদীতে প্রবাসী মিলনের বাড়িতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজন খড়িয়ার ডাকাতি এবং আলোচিত দিগন্ত হত্যা মামলারও জড়িত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় মাধবদী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ জুলাই ভোররাতে মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামে সৌদি প্রবাসী মিলনের বাড়িতে সশস্ত্র একদল ডাকাত হানা দেয়। ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিলনের বড় ভাই মো. শাহজাহান (৫৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত হন তার চাচা মো. সুরুজ মিয়া। পরে ডাকাত দল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মাধবদী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ আল ফারুকের দিকনির্দেশনায় থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টিম মাঠে নামে। মাত্র ৯ দিনের মাথায় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটিকে শনাক্ত করে ৭ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা হলো— জুবায়ের হোসেন (২০), আশিক আহমেদ (২৩), মোজাহিদ রহমান অপু (২২), সুজন মিয়া (২৫) ও ফারুক মিয়া (৩০)—সবাই নরসিংদীর মাধবদীর বাসিন্দা। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার রোমান (২৮) এবং রূপগঞ্জ উপজেলার হৃদয় মিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাধবদীর বলভদ্রদীর ঘটনা ছাড়াও গত ১১ জুলাই খড়িয়া এলাকার ডাকাতি এবং চাঞ্চল্যকর দিগন্ত হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, নরসিংদী জেলায় সংঘবদ্ধ অপরাধ, ডাকাতি, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মোঃ আল-আমিন | নরসিংদী 



















