
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশের বাঁশ বাগান থেকে এক হিন্দু যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন।
গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ৭নং বামনী ইউনিয়নের বামনী গ্রাম থেকে বিপ্লব দাস নামে এক যুবকের গলায় ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিপ্লব দাস একই এলাকার মৃত বিজয় কৃষ্ণ দাসের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয় বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যা। তাদের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি রাত ৮টা থেকে বিপ্লব দাস নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন দুপুরে তার ভাতিজা বাঁশ কাটতে গিয়ে বাগানে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
নিহতের ভাই আকাশ দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের জেঠাতো ভাই পবন দাস এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। সালিশ বৈঠকেও পবন দাস আমার ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পবন দাস বলেন, আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। বিপ্লব দাসের সঙ্গে আমার কোনো জমি সংক্রান্ত বিরোধ নেই। তবে এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চললেও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে
এইচ এম মাহবুবুর রহমান– রায়পুর প্রতিনিধি 













