Dhaka ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ, গ্রেফতার ১ তেজগাঁও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে ৬৫ জন গ্রেফতার ৫০ পিস ইয়াবাসহ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আটক মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে আইইডি সদৃশ বস্তু উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ বগুড়ায় মাদকসহ ৬ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি বিজয়নগরের আহসান উল্লাহ, শ্রেষ্ঠ এসআই মাহবুবুল অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান, পুলিশ-জনগণের মতবিনিময় রাজধানীর মুগদা থানায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ২২

সাইকেলের প্যাডেলে জীবনের যুদ্ধ: শৈশবকে বিসর্জন দিয়েছে তোফাজ্জল

print news

এহিয়া আহমদ রাফি কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)◼️

 

১৪ বছরের কিশোর তোফাজ্জল হোসেন, ভাঙা একটি সাইকেলে চড়ে প্রতিদিন ভোরে পাড়ি জমায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম খাসিয়া পল্লিতে। সেখানে দিনভর পরিশ্রম করে আয় করে মাত্র দুই-আড়াইশ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলছে তার পুরো পরিবারের জীবন।

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল। তার বাবা আলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন, বড় বোন আয়েশা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ৮২ বছর বয়সী দাদি সমিতা বিবি এক বছর ধরে শয্যাশায়ী।

 

তোফাজ্জল জানায়, “প্রতিদিন সকালে ভাঙা সাইকেল নিয়ে কাজে যাই। সন্ধ্যায় ফিরি। যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটে না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই।”

 

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেওয়া ছোট ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে পাতানো পুরোনো কাঁথায় শুয়ে আছেন তোফাজ্জলের দাদি সমিতা বিবি। অপুষ্টির কারণে শরীর জীর্ণ, কথাও ঠিকঠাক বলতে পারেন না। কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, “ঈদের দিন শুধু ডাল-ভাত খেয়েছি। ক্ষুধায় ঘুম আসে না। তোফাজ্জল ছোট মানুষ, সে আর কত করুক?”

 

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি সত্যিই চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেশী ফজল মিয়া বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য করতে, কিন্তু সবসময় পারি না। ছেলেটা একাই লড়ছে।”

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে অনেকে সাময়িকভাবে খাবার সহযোগিতা করেছেন, তবে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়া হলেও এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও স্বাবলম্বিতার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তোফাজ্জলের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

 

এই পরিবারটির সাহায্যে সমাজের বিত্তবান, সংগঠন কিংবা প্রশাসনের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।

তোফাজ্জলের ছোট্ট ভাঙা সাইকেল যেন তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয় হয়ে না পড়ে, বরং সে-ই হোক নতুন আশার বাহক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

সাইকেলের প্যাডেলে জীবনের যুদ্ধ: শৈশবকে বিসর্জন দিয়েছে তোফাজ্জল

আপডেটের সময়: ০৫:৩৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
print news

এহিয়া আহমদ রাফি কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)◼️

 

১৪ বছরের কিশোর তোফাজ্জল হোসেন, ভাঙা একটি সাইকেলে চড়ে প্রতিদিন ভোরে পাড়ি জমায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম খাসিয়া পল্লিতে। সেখানে দিনভর পরিশ্রম করে আয় করে মাত্র দুই-আড়াইশ টাকা। এই সামান্য উপার্জনেই চলছে তার পুরো পরিবারের জীবন।

 

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তোফাজ্জল। তার বাবা আলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রোগে ভুগছেন, বড় বোন আয়েশা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ৮২ বছর বয়সী দাদি সমিতা বিবি এক বছর ধরে শয্যাশায়ী।

 

তোফাজ্জল জানায়, “প্রতিদিন সকালে ভাঙা সাইকেল নিয়ে কাজে যাই। সন্ধ্যায় ফিরি। যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো খাবার জোটে না। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দুনিয়ায় কেউ নেই।”

 

সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেওয়া ছোট ঘরটিতে গিয়ে দেখা যায়, মাটিতে পাতানো পুরোনো কাঁথায় শুয়ে আছেন তোফাজ্জলের দাদি সমিতা বিবি। অপুষ্টির কারণে শরীর জীর্ণ, কথাও ঠিকঠাক বলতে পারেন না। কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, “ঈদের দিন শুধু ডাল-ভাত খেয়েছি। ক্ষুধায় ঘুম আসে না। তোফাজ্জল ছোট মানুষ, সে আর কত করুক?”

 

স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি সত্যিই চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেশী ফজল মিয়া বলেন, “আমরা চেষ্টা করি সাহায্য করতে, কিন্তু সবসময় পারি না। ছেলেটা একাই লড়ছে।”

 

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে অনেকে সাময়িকভাবে খাবার সহযোগিতা করেছেন, তবে পরিবারটির দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়া হলেও এখন তাদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও স্বাবলম্বিতার জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তোফাজ্জলের ভবিষ্যতের জন্য সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।”

 

এই পরিবারটির সাহায্যে সমাজের বিত্তবান, সংগঠন কিংবা প্রশাসনের এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।

তোফাজ্জলের ছোট্ট ভাঙা সাইকেল যেন তার পরিবারের একমাত্র আশ্রয় হয়ে না পড়ে, বরং সে-ই হোক নতুন আশার বাহক।