Dhaka ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় মানববন্ধন: অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারার দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারিদের বাড়িতে লাল চিহ্ন দেওয়ার হুঁশিয়ারি জেলা পুলিশের ইউপি নির্বাচন, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের জামায়াত নেতা বুলবুল আহমাদ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আফজল হুসাইনের মানবসেবার স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরির দাবি কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন: সভাপতি জসিম উদ্দিন, সম্পাদক নাজিম উদ্দীন নরসিংদীর পলাশে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের বিশেষ দিকনির্দেশনা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর উত্তরা পশ্চিম থানার অভিযান, ১১ আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৬

রায়পুরায় অবৈধ বালু দস্যুদের সশস্ত্র হামলা: ভ্রাম্যমান আদালতের নিরাপত্তা ভঙ্গ

print news

এইচ এম জাকির হুসাইন- নরসিংদী◾

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলীয় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ক্রমেই দাপট নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সময়ে সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু দস্যুদের কৌশল ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং দস্যুদের সশস্ত্র হামলার মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রায়পুরার মির্জারচর এলাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চলাকালে সশস্ত্র বালু দস্যুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান রুবেল। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেপাল কান্তি দেব।

অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল সংখ্যক সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা মেঘনা নদীর চরমধুয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাই। অভিযানকালে বালু দস্যুরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালত স্থগিত করতে হয়।” তিনি আরও জানান, “এসব সশস্ত্র দস্যু একত্রিত হয়ে বিরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করতে রাজি আছি এবং প্রয়োজন পড়লে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও কীভাবে দস্যুরা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার পেছনে গুমরাহ করা শক্তি কাজ করছে এবং প্রশাসনকে আরও সুসংহত উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতেও একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত ও সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বালু দস্যুদের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড থেকে রায়পুরাসহ সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

রায়পুরায় অবৈধ বালু দস্যুদের সশস্ত্র হামলা: ভ্রাম্যমান আদালতের নিরাপত্তা ভঙ্গ

আপডেটের সময়: ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
print news

এইচ এম জাকির হুসাইন- নরসিংদী◾

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলীয় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা ক্রমেই দাপট নিতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সময়ে সময়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলেও বালু দস্যুদের কৌশল ও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে কার্যকর সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়নি। বরং দস্যুদের সশস্ত্র হামলার মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রায়পুরার মির্জারচর এলাকায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চলাকালে সশস্ত্র বালু দস্যুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি বর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান রুবেল। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেপাল কান্তি দেব।

অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল সংখ্যক সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল জানান, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা মেঘনা নদীর চরমধুয়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাই। অভিযানকালে বালু দস্যুরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের ভ্রাম্যমান আদালত স্থগিত করতে হয়।” তিনি আরও জানান, “এসব সশস্ত্র দস্যু একত্রিত হয়ে বিরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করতে রাজি আছি এবং প্রয়োজন পড়লে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেও কীভাবে দস্যুরা এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার পেছনে গুমরাহ করা শক্তি কাজ করছে এবং প্রশাসনকে আরও সুসংহত উদ্যোগ নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতেও একই এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালত ও সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বালু দস্যুদের এই ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড থেকে রায়পুরাসহ সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই জনগণের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের আরও দৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।