
◼️দেলোয়ার খান–
স্টাফ রিপোর্টার
“আপনার অজান্তেই আপনার লিভার ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে।”
চেম্বারে এক রোগীকে বলছিলেন ডা. তানভীর আহমেদ।
রোগী বললেন, “জি, ১৫ বছর আগে আমার ফ্যাটি লিভার ধরা পড়েছিল। তখন পাত্তা দেইনি। কিন্তু এখন ছয় মাস ধরে পেট ফুলে যাচ্ছে। প্রথমে ওষুধে কমত, এখন আর কমছে না।”
ডা. তানভীর বললেন, “বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এসে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য নাম লিস্টে তুলুন।
এই দৃশ্য আজকের দিনে খুবই সাধারণ। এভাবেই ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতি বছর প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে প্রতি তিনজনের একজন ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। অর্থাৎ ১৮ কোটির মধ্যে অন্তত ৬ কোটির ফ্যাটি লিভার রয়েছে।
প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ ফ্যাটি লিভার আক্রান্তের রোগ আরও জটিল হয়ে NASH (Non-Alcoholic Steatohepatitis)-এ রূপ নেয়। এতে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ।
এই ১ কোটি NASH রোগীর মধ্যে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ শেষ পর্যন্ত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন।
আর দেশের চিত্র? মাত্র ১৫০ জন লিভার বিশেষজ্ঞ।
লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট এখনো পুরোপুরি চালুই হয়নি।
উল্টো বিপদ আরও বড়। আপনি যদি অন্যের লিভার নিতে চান, আর সেই ডোনারেরও যদি ফ্যাটি লিভার থাকে, তাহলে সেটা বাতিল হয়ে যাবে।
কে দেবে তখন আপনাকে লিভার?
ভবিষ্যৎ যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে ২০৪০ সালের মধ্যে এক প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।
এখনই সময় সচেতন হওয়ার।
সাধারণ একটি আল্ট্রাসাউন্ড করেই জেনে নেওয়া যায় ফ্যাটি লিভার আছে কি না।
যদি ওজন বেশি থাকে, ওজন কমান।
যেভাবে করবেন:
▫️হাঁটুন
▫️নিয়মিত হাঁটুন
▫️পরিমিত আহার করুন
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত ফ্যাটি লিভারের কোনো কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
এখন সচেতন না হলে সামনে হয়তো আর সুযোগই থাকবে না।
প্রতিবেদকের নাম 
















