Dhaka ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসক বদলি ও নৈশপ্রহরী বরখাস্ত

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু: ৫ মাস পর কবর থেকে উত্তোলিত বিএনপি নেতা’র মরদেহ

  • খুলনা ব্যুরো
  • আপডেটের সময়: ০৮:১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • ৮৬ সময় দেখুন
print news

খুলনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর পাঁচ মাস পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ভোটারদের চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদ করায় কেন্দ্রের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরদার তার গলা চেপে ধরেন এবং ধাক্কা দেন। এতে গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে বিএনপি। তবে স্থানীয় জামায়াত প্রার্থীর দাবি ছিল, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। সে সময় হাসপাতালের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরের বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু বাদী হয়ে আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকায় মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পুনর্ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু: ৫ মাস পর কবর থেকে উত্তোলিত বিএনপি নেতা’র মরদেহ

আপডেটের সময়: ০৮:১১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
print news

খুলনায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালনকালে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির (৬৩) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর পাঁচ মাস পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে মহানগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ভোটারদের চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদ করায় কেন্দ্রের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরদার তার গলা চেপে ধরেন এবং ধাক্কা দেন। এতে গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই একে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে বিএনপি। তবে স্থানীয় জামায়াত প্রার্থীর দাবি ছিল, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। সে সময় হাসপাতালের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরের বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু বাদী হয়ে আব্দুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থেই আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকায় মামলার তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পুনর্ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।