Dhaka ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে ভোলা সদর হাসপাতালটি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ২৫০ সময় দেখুন
print news

মুহাম্মদ আরিফ,স্টাফ রিপোর্টার: অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে ভোলা সদর হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক,নার্স ও জনবল সংকটে জর্জরিত হাসপাতালটি। ২০ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা স্থল থাকলেও ভোলা সদর হাসপাতাল এসে পাচ্ছেন না কাঙ্খিত চিকিৎসা।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১১ বছর আগে। তবে সেবাকার্যক্রম চলছে আগের সেই ১০০ শয্যার লোকবল দিয়েই। শুধু তাই নয়, এই ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও নেই এখানে। এতে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সরা। হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দ্রুত জনবল নিয়োগসহ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষসহ ভোলাবাসী।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের সত্যতা পাওয়া যায়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা বলেছেন, সারাদিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা মেলে। দুপুরের পর হাসপাতালে কোনও রোগী ভর্তি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ছাড়া পরের দিন সকালের আগে ওয়ার্ডে কোনও চিকিৎসকের দেখা মেলে না। কোনও পরীক্ষা দিলে তার রিপোর্ট দেখাতে হয় পরের দিন। ফলে চিকিৎসা পেতে অনেক রোগীকে ভর্তির পর ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ওয়ার্ডের শয্যা সংকট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৌচাগার নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসক প্রয়োজন ৬০ জন। সব মিলিয়ে রয়েছে মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক, হাসপাতালে নার্স প্রয়োজন ৯০ জন, সেখানে নার্স রয়েছে ৫৮ জন। ২৫০ শয্যা ভোলা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ পদেই চিকিৎসক নেই দীর্ঘবছর ধরে। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ( সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোসার্জারি) , জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), প্যাথলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার (রক্তসঞ্চালন), অ্যানেসথেসিস্ট, অর্থোপেডিক চক্ষু সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো চিকিৎসক না থাকায় অসহায় দুস্থ রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। চিকিৎসক সংকট দেখিয়ে তাদের কে বিভাগীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জানা গেছে, ভোলা সদর হাসপাতাল টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। এর পরে এক যুগের বেশি সময়ের পরে ২০১৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। শয্যায় উন্নতি হলেও সেবায় উন্নতি করতে পারেনি হাসপাতালটি। সংকটে সংকটে কাটছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ছুটে যাচ্ছে ক্লিনিকে আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সিনিয়র কনসালটেন্টের অভাবে জটিল রোগের রোগীরা কোন উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্যত্র।এ সুযোগে শহরের হাসপাতাল এবং আশ পাশ এলাকায়  গড়ে উঠেছে অর্ধ শত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার আর ক্লিনিক।হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল চক্র । হাসপাতালে অযত্ন আর টেকনিশিয়ানের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

এ বিষয় ডাঃ সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফী (তত্ত্বাবধায়ক) কাছে জানতে চাইলে ,আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন বার বার লোকবল বাড়ানোর চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো ফল হয়নি। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে ভোলা সদর হাসপাতালটি

আপডেটের সময়: ০৯:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
print news

মুহাম্মদ আরিফ,স্টাফ রিপোর্টার: অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে ভোলা সদর হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক,নার্স ও জনবল সংকটে জর্জরিত হাসপাতালটি। ২০ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা স্থল থাকলেও ভোলা সদর হাসপাতাল এসে পাচ্ছেন না কাঙ্খিত চিকিৎসা।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১১ বছর আগে। তবে সেবাকার্যক্রম চলছে আগের সেই ১০০ শয্যার লোকবল দিয়েই। শুধু তাই নয়, এই ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে যে পরিমাণ জনবল দরকার তাও নেই এখানে। এতে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সরা। হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে দ্রুত জনবল নিয়োগসহ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষসহ ভোলাবাসী।

সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে চিকিৎসক ও জনবল সংকটের সত্যতা পাওয়া যায়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা বলেছেন, সারাদিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা মেলে। দুপুরের পর হাসপাতালে কোনও রোগী ভর্তি হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ছাড়া পরের দিন সকালের আগে ওয়ার্ডে কোনও চিকিৎসকের দেখা মেলে না। কোনও পরীক্ষা দিলে তার রিপোর্ট দেখাতে হয় পরের দিন। ফলে চিকিৎসা পেতে অনেক রোগীকে ভর্তির পর ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ওয়ার্ডের শয্যা সংকট, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শৌচাগার নিয়েও ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসক প্রয়োজন ৬০ জন। সব মিলিয়ে রয়েছে মাত্র ১৭ জন চিকিৎসক, হাসপাতালে নার্স প্রয়োজন ৯০ জন, সেখানে নার্স রয়েছে ৫৮ জন। ২৫০ শয্যা ভোলা হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ পদেই চিকিৎসক নেই দীর্ঘবছর ধরে। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ( সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোসার্জারি) , জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), প্যাথলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার (রক্তসঞ্চালন), অ্যানেসথেসিস্ট, অর্থোপেডিক চক্ষু সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো চিকিৎসক না থাকায় অসহায় দুস্থ রোগীরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। চিকিৎসক সংকট দেখিয়ে তাদের কে বিভাগীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জানা গেছে, ভোলা সদর হাসপাতাল টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৯৮ সালে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। এর পরে এক যুগের বেশি সময়ের পরে ২০১৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয়। শয্যায় উন্নতি হলেও সেবায় উন্নতি করতে পারেনি হাসপাতালটি। সংকটে সংকটে কাটছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ছুটে যাচ্ছে ক্লিনিকে আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সিনিয়র কনসালটেন্টের অভাবে জটিল রোগের রোগীরা কোন উন্নত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অন্যত্র।এ সুযোগে শহরের হাসপাতাল এবং আশ পাশ এলাকায়  গড়ে উঠেছে অর্ধ শত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার আর ক্লিনিক।হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল চক্র । হাসপাতালে অযত্ন আর টেকনিশিয়ানের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

এ বিষয় ডাঃ সৈয়দ আবু আহাম্মদ শফী (তত্ত্বাবধায়ক) কাছে জানতে চাইলে ,আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন বার বার লোকবল বাড়ানোর চাহিদাপত্র পাঠালেও কোনো ফল হয়নি। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য।