
◼️আরিফুর রহমান–লক্ষ্মীপুর সদর
সত্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব হলেও আজ তা হয়ে উঠেছে তাদের জন্য জীবনের বড় ঝুঁকি। নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক চাপ, সন্ত্রাসী হুমকি ও মামলা-মোকদ্দমার ভয় উপেক্ষা করেই দেশের অনেক সাংবাদিক এখনও অনিয়ম, দুর্নীতি ও সমাজের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরছেন।
প্রভাবশালী মহল ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই সাংবাদিকদের উপর নেমে আসে নানা ধরণের নিপীড়ন। কারও বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, কারও ওপর সন্ত্রাসী হামলা, আবার অনেক সময় প্রাণঘাতী আক্রমণেও তাঁরা টার্গেট হন। সম্প্রতি গাজীপুরে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আরেকজন সাংবাদিক আনোয়ারকে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। গত সপ্তাহে নিখোঁজের একদিন পর মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সাহার মরদেহ। মনোহরদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা ও মিথ্যা মামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটে চলেছে।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও সাংবাদিকরা দমে যাননি। দেশের সৎ, সাহসী সংবাদকর্মীরা কলমকে হাতিয়ার করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে লড়ে যাচ্ছেন। নিজেরা ঝুঁকিতে থাকলেও জনগণের অধিকার ও সত্য প্রকাশে তারা অটল অবস্থান নিয়েছেন।
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে গণতন্ত্র ও সুশাসনের রক্ষক বলা হয়। অথচ সত্য প্রকাশের জন্য আজ সেই সংবাদকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবার-পরিজনকেও সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়তে হচ্ছে। তবুও দমে যান না সাংবাদিকরা। কারণ তাঁদের বিশ্বাস—সত্যের জয় হবেই।
সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক সুরক্ষা আইন–২০২৫ অনুমোদন করেছে। পেশাজীবীরা মনে করছেন, আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তখন হয়তো দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের খবর প্রকাশ করতে গিয়ে আর তাঁদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হবে না।
প্রতিবেদকের নাম 


























