Dhaka ১২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় মানববন্ধন: অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারার দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারিদের বাড়িতে লাল চিহ্ন দেওয়ার হুঁশিয়ারি জেলা পুলিশের ইউপি নির্বাচন, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের জামায়াত নেতা বুলবুল আহমাদ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আফজল হুসাইনের মানবসেবার স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরির দাবি কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন: সভাপতি জসিম উদ্দিন, সম্পাদক নাজিম উদ্দীন নরসিংদীর পলাশে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের বিশেষ দিকনির্দেশনা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর উত্তরা পশ্চিম থানার অভিযান, ১১ আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৬

সম্পত্তির লোভে শ্বশুরকে জামাতার হত্যা

print news

আলাউদ্দিন রায়হান,পাথরঘাটা প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর হীরণ গাজী হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। মামলার তিন নম্বর স্বাক্ষী হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ইমরান সরদার সম্পত্তির লোভে শ্বশুর হীরণ গাজীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা ১৬১ ধারার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামাতা ইমরান সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক মোঃ আরিফুর রহমান রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামী জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গত মাসের ১১ এপ্রিল রাতে আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার নয়ন মৃধার লোকজন ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যায়। এতে বাঁধা দেয় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাহার উদ্দিন মৃধার সমর্থক হীরণ গাজী। ওই ঘটনার পরপরই ওই রাতে হীরণ গাজীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হীরণ গাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে আমতলী থানায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার নয়ন মৃধাকে প্রধান আসামী করে ১৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় প্রধান আসামী আবুল বাশার নয়ন মৃধা জেল হাজতে রয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উপঘাটনে বরগুনা পুলিশ সুপার আব্দুস ছালাম বরগুনা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবির এস আই মোশাররফ হোসেনকে এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। ঘটনা উদঘাটনে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। ওই মামলার স্বাক্ষী করা হয় হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারসহ বেশ কয়েকজনকে। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তে মামলার মোটিভ ঘুড়ে যায়। ঘটনার এক মাস পরে অর্থ্যাৎ গত ১১ মে ডিবি পুলিশ মামলার ৩ নম্বর স্বাক্ষী ইমরান সরদারকে গ্রেপ্তার করে। ইমরান সরদার ডিবি পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ক্লিনিং মিশনে ইমরান সরদার ও তার বড় ভাই মিলন সরদারসহ ৭ জন অংশ নেয়। পুলিশের কাছে ইমরান সরদার স্বীকার করেছে শ্বশুর হীরণ গাজীর সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে পুঁজি করে পরিকল্পনা মাফিক হীরণ গাজীকে জামাতা ইমরান সরদার, তার বড় ভাই মিলন সরদারসহ তার (ইমরান) পরিবারের লোকজন ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে নির্বাচনে হীরণের প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে বলে চালিয়ে যায় এবং তাদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ মামলার আরো রহস্য উদঘাটনে ডিবি পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ট আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক মোঃ আরিফুর রহমান রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   

বরগুনা ডিবি পুলিশের এস আই মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, মামলার ৩ নম্বর স্বাক্ষী  হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে ইমরান সরদার ১৬১ ধারায় হত্যাকান্ডের মূল রহস্য স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, শ্বশুরের সম্পত্তি দখল করলেই জামাতা ইমরান সরদার  তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরকে হত্যা করেছে। অধিকতর তদন্তে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের বিচারক রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামী জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

সম্পত্তির লোভে শ্বশুরকে জামাতার হত্যা

আপডেটের সময়: ১০:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
print news

আলাউদ্দিন রায়হান,পাথরঘাটা প্রতিনিধি: আমতলী উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের চাঞ্চল্যকর হীরণ গাজী হত্যা মামলার ক্লু উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। মামলার তিন নম্বর স্বাক্ষী হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ইমরান সরদার সম্পত্তির লোভে শ্বশুর হীরণ গাজীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা ১৬১ ধারার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামাতা ইমরান সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক মোঃ আরিফুর রহমান রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামী জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।  

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গত মাসের ১১ এপ্রিল রাতে আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে  চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার নয়ন মৃধার লোকজন ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে যায়। এতে বাঁধা দেয় অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী মোতাহার উদ্দিন মৃধার সমর্থক হীরণ গাজী। ওই ঘটনার পরপরই ওই রাতে হীরণ গাজীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় হীরণ গাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে আমতলী থানায় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার নয়ন মৃধাকে প্রধান আসামী করে ১৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় প্রধান আসামী আবুল বাশার নয়ন মৃধা জেল হাজতে রয়েছেন। এ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উপঘাটনে বরগুনা পুলিশ সুপার আব্দুস ছালাম বরগুনা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবির এস আই মোশাররফ হোসেনকে এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। ঘটনা উদঘাটনে তদন্তে নামে ডিবি পুলিশ। ওই মামলার স্বাক্ষী করা হয় হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারসহ বেশ কয়েকজনকে। তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তে মামলার মোটিভ ঘুড়ে যায়। ঘটনার এক মাস পরে অর্থ্যাৎ গত ১১ মে ডিবি পুলিশ মামলার ৩ নম্বর স্বাক্ষী ইমরান সরদারকে গ্রেপ্তার করে। ইমরান সরদার ডিবি পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ক্লিনিং মিশনে ইমরান সরদার ও তার বড় ভাই মিলন সরদারসহ ৭ জন অংশ নেয়। পুলিশের কাছে ইমরান সরদার স্বীকার করেছে শ্বশুর হীরণ গাজীর সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে পুঁজি করে পরিকল্পনা মাফিক হীরণ গাজীকে জামাতা ইমরান সরদার, তার বড় ভাই মিলন সরদারসহ তার (ইমরান) পরিবারের লোকজন ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে নির্বাচনে হীরণের প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যা করেছে বলে চালিয়ে যায় এবং তাদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ মামলার আরো রহস্য উদঘাটনে ডিবি পুলিশ আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ট আবেদন করেছেন। আদালতের বিচারক মোঃ আরিফুর রহমান রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   

বরগুনা ডিবি পুলিশের এস আই মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, মামলার ৩ নম্বর স্বাক্ষী  হত্যার শিকার হীরণ গাজীর ছোট জামাতা ইমরান সরদারকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে ইমরান সরদার ১৬১ ধারায় হত্যাকান্ডের মূল রহস্য স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, শ্বশুরের সম্পত্তি দখল করলেই জামাতা ইমরান সরদার  তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বশুরকে হত্যা করেছে। অধিকতর তদন্তে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালতের বিচারক রিমান্ড আবেদন না মঞ্জুর করে আসামী জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।