Dhaka ০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ, গ্রেফতার ১ তেজগাঁও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে ৬৫ জন গ্রেফতার ৫০ পিস ইয়াবাসহ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আটক মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে আইইডি সদৃশ বস্তু উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১ বগুড়ায় মাদকসহ ৬ জন গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি বিজয়নগরের আহসান উল্লাহ, শ্রেষ্ঠ এসআই মাহবুবুল অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়তে ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান, পুলিশ-জনগণের মতবিনিময় রাজধানীর মুগদা থানায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ২২

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা এখন ছাত্রদলের কাণ্ডারি

print news

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা◾

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ছাত্র রাজনীতিতে ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে এবার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

সম্প্রতি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রদল। সেই কমিটিতে সভাপতি করা হয় নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাব্বির হোসেনকে। অথচ, কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগ নেতারা ফুল দিয়ে যাকে বরণ করেছিলেন, এখন তাকেই ছাত্রদলের নেতারাও ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

সাব্বিরের অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুই দলের প্যাডে তার নাম থাকা ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের অনেকেই জানিয়েছেন, সংগঠনে বহু ত্যাগী কর্মী থাকতে সাব্বিরের মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া দলীয় আদর্শ ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

অবশ্য এ বিষয়ে সাব্বির হোসেন দাবি করেন, “আমি তখন এলাকার এক ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। ছবিগুলো তখনই তোলা, আর ছাত্রলীগের প্যাডে যে নাম উঠেছে, সেটা আমার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাসেল ভাইকে (উপজেলা ছাত্রলীগ সেক্রেটারি) সংবর্ধনা দিতে গিয়েছিলাম, সেখানে ছবিগুলো তোলা হয়।”

শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা, এমনকি আহ্বায়কও স্বীকার করেছেন, সাব্বির আগে ছাত্রলীগ করতেন। তবে কীভাবে তিনি ছাত্রদলের কমিটিতে এলেন, তা নিয়ে তারা অবগত নন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, “সাব্বির ছাত্রলীগ করতেন কিনা, তা আমাদের জানা নেই। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনে সে আমাদের সঙ্গে ছিল।”
সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরু জানান, “সে ২০২০ সালে ছাত্রলীগে ছিল। পরে আমাদের দলে যোগ দেয়, আমরা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছি।”

এই ঘটনাটি ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শচ্যুতি এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন ও সুবিধাবাদীদের পদায়নে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন চিন্তিত অনেকে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা এখন ছাত্রদলের কাণ্ডারি

আপডেটের সময়: ১১:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
print news

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা◾

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ছাত্র রাজনীতিতে ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে এবার কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

সম্প্রতি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা ছাত্রদল। সেই কমিটিতে সভাপতি করা হয় নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সাব্বির হোসেনকে। অথচ, কিছুদিন আগেই আওয়ামী লীগ নেতারা ফুল দিয়ে যাকে বরণ করেছিলেন, এখন তাকেই ছাত্রদলের নেতারাও ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

সাব্বিরের অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের দুই দলের প্যাডে তার নাম থাকা ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের অনেকেই জানিয়েছেন, সংগঠনে বহু ত্যাগী কর্মী থাকতে সাব্বিরের মতো একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া দলীয় আদর্শ ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

অবশ্য এ বিষয়ে সাব্বির হোসেন দাবি করেন, “আমি তখন এলাকার এক ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। ছবিগুলো তখনই তোলা, আর ছাত্রলীগের প্যাডে যে নাম উঠেছে, সেটা আমার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “রাসেল ভাইকে (উপজেলা ছাত্রলীগ সেক্রেটারি) সংবর্ধনা দিতে গিয়েছিলাম, সেখানে ছবিগুলো তোলা হয়।”

শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা, এমনকি আহ্বায়কও স্বীকার করেছেন, সাব্বির আগে ছাত্রলীগ করতেন। তবে কীভাবে তিনি ছাত্রদলের কমিটিতে এলেন, তা নিয়ে তারা অবগত নন।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, “সাব্বির ছাত্রলীগ করতেন কিনা, তা আমাদের জানা নেই। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনে সে আমাদের সঙ্গে ছিল।”
সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন হীরু জানান, “সে ২০২০ সালে ছাত্রলীগে ছিল। পরে আমাদের দলে যোগ দেয়, আমরা যাচাই-বাছাই করেই তাকে পদ দিয়েছি।”

এই ঘটনাটি ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শচ্যুতি এবং দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ত্যাগী কর্মীদের অবমূল্যায়ন ও সুবিধাবাদীদের পদায়নে সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন চিন্তিত অনেকে।