
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিল, স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে আসা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা এবং কুষ্টিয়া মডেল থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
গ্রেফতারকৃত পাঁচজন হলেন—মো. ফারুক হোসেন (৪১), সাকিব খান (২৫), মাসুম মুনসী (৪৫), মীর তৌহিদুল ইসলাম (৩৬) এবং মো. বকুল মন্ডল (৩৫)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অফিসিয়াল লেটারহেড প্যাডের ৪ বান্ডিল এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ৪১টি জাল সিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৮টি মোবাইল ফোন, ২টি কম্পিউটার ও ১টি ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মো. ফারুক হোসেন ২০০৬ সালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পে ইলেকট্রিশিয়ান পদে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর তিনি তা পুনর্বহালের জন্য জালিয়াতির পথ বেছে নেন। নিজের চাকরি ফিরে পেতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের নাম ব্যবহার করে জাল সিল, স্বাক্ষর ও লেটারহেড দিয়ে একটি ফাইল প্রস্তুত করেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘Priority’ সিলের নকল ব্যবহার করে নথিটি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চালান। এই ঘটনার সূত্র ধরেই পরবর্তীতে তিনি একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, লিখিত নথি জাল করার পাশাপাশি এই চক্রটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরি পুনর্বহালের জন্য অবৈধ চাপ সৃষ্টি করত। এছাড়া একই কৌশলে মলদোভায় জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত একটি জাল সুপারিশপত্রও বিভিন্ন দপ্তরে উপস্থাপন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি সরকারি সিল ও প্যাড ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণামূলক তদবির-বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 



















