
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নাফিজা আক্তার খালেদা (২২) নামের এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শহরের কাজীপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাফিজা আক্তার খালেদা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ পৈরতলা এলাকার জাহাঙ্গীর আলম ফারুকের মেয়ে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে কলেজ ক্লাস শেষে নাফিজা কাজীপাড়া এলাকায় কোচিং করতে যান। কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে একটি বেপরোয়া গতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে রাস্তার পাশের একটি দেয়ালে সজোরে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, অটোরিকশার ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় এবং মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পরিবার মামলা করতে ইচ্ছুক না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অটোরিকশা চালককে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মেধাবী এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্বজনরা দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন। দীর্ঘ সময় তারা হাসপাতালের মর্গের সামনে ভিড় করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের শোক ও কান্নায় পুরো হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এক স্বপ্নবাজ তরুণীর এমন অকাল প্রয়াণে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবালার মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 
















