Dhaka ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি: চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার নাগরিক সেবাবঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যানজট, মাদক ও চাঁদাবাজিতে স্থবির জনজীবন পোশাক শ্রমিকদের জন্য ৫ আগস্ট সাধারণ ছুটি ও ৬ আগস্ট সমন্বয় ছুটির ঘোষণা কক্সবাজারে বসছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ‘ফারিয়া’র জমজমাট মিলনমেলা ৩০০ ফিটে চেকপোস্ট বসিয়ে হাইয়েজসহ দুই ডাকাত গ্রেফতার রামপুরা বনশ্রীতে অভিযান: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাসেল গ্রেফতার নরসিংদীতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৩ যানবাহনকে জরিমানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কলেজছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ নরসিংদীতে ঘরে আটকে পড়া দুই বছরের শিশুকে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস সুনামগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে রুস্তুম আলী হত্যা মামলা: ১ নম্বর পলাতক আসামি র‍্যাবের জালে

নাগরিক সেবাবঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যানজট, মাদক ও চাঁদাবাজিতে স্থবির জনজীবন

56 / 100 SEO Score
print news

ছোট্ট একটি জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে এই শহরের সমস্যা ও ভোগান্তির তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, লাগামহীন যানজট থেকে শুরু করে ফুটপাত দখল এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অনিয়ম—সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ওপর দিয়ে শহরটি সচল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নাগরিক সুবিধা ও সুশাসনের কঙ্কালসার রূপ স্পষ্ট ফুটে উঠছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের অলিগলিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে চলছে মাদকের কারবার। কালো টাকার দাপটে অবৈধভাবে পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট এবং সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট, অবৈধ পরিবহন থেকে মাসোহারা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দালালি এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এসব সমস্যার সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা কার্যকর পদক্ষেপ কারো মাঝেই চোখে পড়ে না।

শহরের হাজারও অনিয়ম আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার মূল ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক। প্রভাবশালী, অঢেল সম্পদের মালিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের জন্য যেন কোনো আইন বা ভোগান্তি নেই; আইন প্রয়োগের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের বেলাতেই দৃশ্যমান।

এদিকে এসব সমস্যা ও ভোগান্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে কথা বলতে গেলে মিলে কেবল দায় এড়ানোর অজুহাত। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পেতে চায়। উল্টো অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়মবহির্ভূত দাবিদাওয়া পূরণ না করলে পদে পদে হুমকি ও বদলির মুখোমুখি হতে হয়।

দেশের সংবিধানে ও প্রচলিত আইনি কাঠামোয় নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে দিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটি যেন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ কি শক্ত হাতে এসব সমস্যার লাগাম টানবেন না? নাগরিকদের সচেতন করে একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে কে এগিয়ে আসবে—এই প্রশ্নই এখন জেলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি: চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

নাগরিক সেবাবঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যানজট, মাদক ও চাঁদাবাজিতে স্থবির জনজীবন

আপডেটের সময়: ০৩:৩১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
56 / 100 SEO Score
print news

ছোট্ট একটি জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে এই শহরের সমস্যা ও ভোগান্তির তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, লাগামহীন যানজট থেকে শুরু করে ফুটপাত দখল এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অনিয়ম—সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ওপর দিয়ে শহরটি সচল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নাগরিক সুবিধা ও সুশাসনের কঙ্কালসার রূপ স্পষ্ট ফুটে উঠছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের অলিগলিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে চলছে মাদকের কারবার। কালো টাকার দাপটে অবৈধভাবে পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট এবং সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট, অবৈধ পরিবহন থেকে মাসোহারা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দালালি এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এসব সমস্যার সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা কার্যকর পদক্ষেপ কারো মাঝেই চোখে পড়ে না।

শহরের হাজারও অনিয়ম আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার মূল ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক। প্রভাবশালী, অঢেল সম্পদের মালিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের জন্য যেন কোনো আইন বা ভোগান্তি নেই; আইন প্রয়োগের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের বেলাতেই দৃশ্যমান।

এদিকে এসব সমস্যা ও ভোগান্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে কথা বলতে গেলে মিলে কেবল দায় এড়ানোর অজুহাত। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পেতে চায়। উল্টো অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়মবহির্ভূত দাবিদাওয়া পূরণ না করলে পদে পদে হুমকি ও বদলির মুখোমুখি হতে হয়।

দেশের সংবিধানে ও প্রচলিত আইনি কাঠামোয় নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে দিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটি যেন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ কি শক্ত হাতে এসব সমস্যার লাগাম টানবেন না? নাগরিকদের সচেতন করে একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে কে এগিয়ে আসবে—এই প্রশ্নই এখন জেলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।