
আল-আমিন–নরসিংদী◼️
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ ও চর আলিয়া ইউনিয়নের ইন্টারনেট ও ডিস ব্যবসায়ী মো. রিজভী (৩৬) কে সোমবার (৩০ জুন) রাতে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকার বীরপুরে নিজ বাসায় ফেরার পথে রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিজভী পূর্ব ব্রাহ্মন্দী বীরপুর এলাকার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল মিয়ার একমাত্র পুত্র। পেশায় তিনি স্থানীয় ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিজভী প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পূর্ব ব্রাহ্মন্দী মহিলা মাদ্রাসার সামনে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। তারা প্রথমে রিজভীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই রিজভী প্রাণ হারান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নরসিংদী জেলা পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর একটি টিম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
নিহত রিজভীর বিরুদ্ধে অতীতে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্টতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি আছে। যদিও তার পরিবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রিজভীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নয় প্রশাসন।
নরসিংদী জেলা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি বা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকতে পারে। তদন্ত চলছে, খুব দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। নিহত রিজভীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















