
সোহানুর রহমান◾
গত ২২ মে, বৃহস্পতিবার রাতে ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মাত্র ২৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান শ্রাবণী আক্তার। তাঁর অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন এবং সহকর্মীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন আদরের বোন হিসেবে শ্রাবণী ছিলেন পরিবারের প্রাণ, ভালোবাসা আর হাসির কেন্দ্রবিন্দু।
বোনের এই অকালপ্রয়াণ বড় ভাই, দৈনিক ক্রাইম তালাশ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুল কবির নয়ন-এর হৃদয়ে যে শোক ও শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশের অতীত। তবে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তাঁর ব্যক্তিগত আবেগকে দায়িত্ববোধে পরিণত করে তিনি দেশের সকল জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের প্রতি একটি আবেগঘন আহ্বান জানান—প্রতিটি এলাকায় শ্রাবণীর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের।
এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে রংপুর জেলার পক্ষ থেকে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আয়োজিত এ মাহফিলে হাফেজ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ছোট ছোট কোমলমতি হাফেজ ও ছাত্ররা অংশগ্রহণ করে। কোরআন তিলাওয়াত ও মিলাদের মাধ্যমে শ্রাবণী আক্তারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। পাশাপাশি দোয়ার মাধ্যমে তার বড় ভাই মাহমুদুল কবির নয়নের জন্যও ধৈর্য, শক্তি এবং শান্তির প্রার্থনা করা হয়।
এ আয়োজন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভাই-বোনের নিখাদ ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন এবং একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধতার এক নিদর্শন। বোনের জন্য ভাইয়ের এই হৃদয়স্পর্শী উদ্যোগ প্রমাণ করে—রক্তের সম্পর্ক কেবল জন্মগত নয়, বরং অনুভবেরও।
মাহমুদুল কবির নয়ন তাঁর বার্তায় বলেন, “শ্রাবণী ছিল শুধু আমার বোন নয়, আমার জীবনের এক অংশ। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমি চাই, তার আত্মার শান্তির জন্য সকলে দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করেন।”
এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করে। একজন ভাইয়ের বোনের জন্য এই ভালোবাসা ও সন্মান, দোয়া ও দুঃখ ভাগাভাগির এই মহৎ আয়োজন ভবিষ্যতেও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















