
স্বাস্থ্য ডেস্ক◼️
আজকের ডিজিটাল যুগে হেডফোন যেন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিউজিক, ইউটিউব, গেমিং কিংবা ফোনকল—সবকিছুতেই হেডফোন ব্যবহার হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাসই কি ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছে আমাদের শ্রবণশক্তি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে হেডফোন ব্যবহার করলে শ্রবণযন্ত্রের সূক্ষ্ম কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একবার এই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে না। ধীরে ধীরে এটি স্থায়ী শ্রবণহীনতার দিকে ঠেলে দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা অনুযায়ী, ১২-৩৫ বছর বয়সী প্রায় ১.১ বিলিয়ন তরুণ-তরুণী হেডফোনের কারণে সম্ভাব্য শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ অধিকাংশ মানুষ হেডফোনে ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দে গান শোনেন, যা শ্রবণযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
আরও ভয়াবহ তথ্য হলো—বেশিরভাগ স্মার্টফোনে ভলিউম লেভেল ১০০% রাখলে তা ১০০–১১০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়। মাত্র ১৫ মিনিট এই মাত্রার শব্দ শ্রবণশক্তির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হেডফোন ব্যবহারে কিছু নিয়ম না মানলে অল্প বয়সেই কানে হুইসেল ধরা, কানের ভেতরে ঝাঁ ঝাঁ করা কিংবা শব্দ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যেটিকে বলে “Noise-Induced Hearing Loss (NIHL)।”
প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। হেডফোন ব্যবহার করার সময় শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০% এর নিচে রাখা উচিত। একটানা ৩০-৪০ মিনিটের বেশি ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মাঝে বিরতি নিয়ে কানকে বিশ্রাম দিন।
এখন প্রশ্ন হলো—নিয়ম না মেনে ব্যবহার করলে, কি আমরা কৃত্রিমভাবে নিজেকেই বধির করে তুলছি?
উত্তরটা স্পষ্ট—হ্যাঁ। আর তাই এখনই সচেতন হওয়া দরকার। কারণ আপনার কান একবার যা হারাবে, তা আর ফিরবে না।
আপনি কি আজও হেডফোনে ভলিউম বাড়িয়ে গান শুনছেন? যদি হ্যাঁ, তবে একদিন আপনি এই শব্দ শুনতেই পাবেন না।
প্রতিবেদকের নাম 
















