
দেশে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া নৌযান শুমারি-২০২৬ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম ও প্রচারণামূলক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
নৌপরিবহন খাতকে আরও সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর যৌথভাবে এই শুমারির আয়োজন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ শুমারির আওতায় সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে যেকোনো ধরনের ইঞ্জিনবিহীন নৌকা এই হিসাবের বাইরে থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত প্রাথমিক ধাপে ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই তালিকায় সারাদেশে মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান শনাক্ত হয়। অবাক করার বিষয় হলো, এর মধ্যে এক সুনামগঞ্জ জেলাতেই পাওয়া গেছে ২৬ হাজার ৯৯টি নৌযান—যা দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় সর্বাধিক।
হাওরবেষ্টিত এ অঞ্চলে শুমারি কার্যক্রম নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের জন্য সুনামগঞ্জ জেলাকে চারটি শুমারি জেলায় বিভক্ত করা হয়েছে। মাঠে থাকবেন ৪ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী, ৪৯ জন জোনাল অফিসার এবং ৩৫৩ জন প্রশিক্ষিত গণনাকারী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই শুমারির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের নৌযান খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) তৈরি হবে। এটি দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নতুন নীতি নির্ধারণ, নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মুশফিকুর রহমান পারভেজ। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিসংখ্যান কার্যালয়ের গণনাকারীরাও এতে অংশ নেন।
এরশাদুল হক (সুনামগঞ্জ) 



















