
নরসিংদী জেলা সদরের শহরাঞ্চলজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। তিতাস গ্যাস পাইপলাইনে কাঙ্ক্ষিত চাপ না থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে বাসাবাড়ির রান্নার চুলা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তীব্র ভোগান্তি ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নগরবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী জেলা সদরের ভেলানগর, বিলাসদী, টাউয়াদী, বানিয়াছল, দাসপাড়া, কাউরিয়াপাড়া ও সাটিরপাড়াসহ শহরের অধিকাংশ আবাসিক এলাকায় সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ একদম শূন্যে নেমে আসে। সকাল ও দুপুরের মতো রান্নাবান্নার ব্যস্ততম সময়ে গ্যাস না থাকায় শত শত পরিবারে চুলা জ্বলছে না। ফলে নিয়মিত খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা।
ভোগান্তির বিবরণ দিয়ে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া এলাকার এক গৃহিণী জানান, “সকাল সাতটার পরপরই গ্যাসের চাপ কমে যায়। দুপুরের আগে আর গ্যাস পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে শেষ বয়সে ইলেকট্রিক চুলা আর মাটির চুলা কিনেছি। কিন্তু একদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল, অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের বাড়তি খরচ—সব মিলিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
একই ভোগান্তির কথা জানান ভেলানগর এলাকার বাসিন্দারা। নিয়মিত রান্না না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চড়া দামে রেস্তোরাঁর খাবার কিনে দিন পার করতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। ফলে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, এই গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে নরসিংদী জেলার শিল্পকারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। সম্প্রতি জেলার প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে শূন্য থেকে ২ পিএসআই (PSI)-এ নেমে এসেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিল্পমালিকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে নরসিংদী জেলায় মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহে ঘাটতি থাকার কারণেই মূলত এই সাময়িক চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার আশু সমাধান চেয়েছেন ভুক্তভোগী নরসিংদী নগরবাসী। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে প্রতিটি বাসাবাড়ির রান্নার চুলায় পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।
আল আমিন | নরসিংদী 



















