Dhaka ১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

বিকাল বেলা মানসিক প্রশান্তির মোক্ষম সময়—জানুন বিজ্ঞান ও সুন্নাহর আলোকে

print news

স্বাস্থ্য ডেস্ক–◼️

দিনের শেষে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার নামই যেন বিকাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সময়টা কেবল চা খাওয়ার বা বিশ্রামের নয়—শরীর ও মনের পরিচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য ও ইসলামী জ্ঞানের আলোকে বিকালকে মূল্যবান সময় হিসেবে দেখা হয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন—বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, এই সময় আমাদের দেহের কর্টিসল হরমোন (স্ট্রেস রিলেটেড) কমতে শুরু করে এবং দেহে গ্লুকোজের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে আমরা ক্লান্ত, অলস বা বিষণ্ন অনুভব করতে পারি। এই সময় কেউ কেউ চা বা কফির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা পরে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, বিকাল বেলায় হালকা ব্যায়াম—যেমন হাঁটা, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা সাইকেলিং করলে শরীর যেমন সজীব হয়, তেমনি মানসিক চাপও কমে। এটি ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি উন্নত করে, যেটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক।

পুষ্টিবিদরা বলছেন—এই সময়ের জন্য স্ন্যাকস হিসাবে বাদাম, খেজুর, কলা, অ্যাভোকাডো বা দই খুবই উপকারী। ভারী খাবার খেলে রাত্রে হজমের সমস্যা হয়, ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। তাই বিকালের নাশতায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিকালের গুরুত্ব আরও একধাপ এগিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, এই সময়েই আমরা দিনের ক্লান্তি জমিয়ে ফেলি। যদি পরিবার, প্রকৃতি বা হালকা এক কাপ চায়ের সঙ্গে কিছু সময় ব্যয় করা যায়—তা মানসিকভাবে বিশ্রাম ও পুনর্জাগরণের ভূমিকা রাখে।

ইসলামিক স্কলাররাও বিকালকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিকাল বেলা সূরা আসর পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে, যেখানে সময়ের গুরুত্ব এবং ধৈর্যের প্রশান্তি নিয়ে আল্লাহর শপথ রয়েছে। হাদিসে পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিকাল বেলায় মসজিদে বসে সাহাবিদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, আলোচনা করতেন।

স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে না গিয়ে এই সময়টা প্রকৃতির মাঝে, আপনজনের সঙ্গে, বা নিজেকে কিছুটা সময় দিলে শুধু মন নয়—পুরো দিনটাই হয়ে উঠতে পারে ইতিবাচক ও প্রভাবশালী।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

বিকাল বেলা মানসিক প্রশান্তির মোক্ষম সময়—জানুন বিজ্ঞান ও সুন্নাহর আলোকে

আপডেটের সময়: ০৪:২১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
print news

স্বাস্থ্য ডেস্ক–◼️

দিনের শেষে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নেওয়ার নামই যেন বিকাল। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই সময়টা কেবল চা খাওয়ার বা বিশ্রামের নয়—শরীর ও মনের পরিচর্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত? আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য ও ইসলামী জ্ঞানের আলোকে বিকালকে মূল্যবান সময় হিসেবে দেখা হয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন—বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, এই সময় আমাদের দেহের কর্টিসল হরমোন (স্ট্রেস রিলেটেড) কমতে শুরু করে এবং দেহে গ্লুকোজের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে আমরা ক্লান্ত, অলস বা বিষণ্ন অনুভব করতে পারি। এই সময় কেউ কেউ চা বা কফির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা পরে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, বিকাল বেলায় হালকা ব্যায়াম—যেমন হাঁটা, ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা সাইকেলিং করলে শরীর যেমন সজীব হয়, তেমনি মানসিক চাপও কমে। এটি ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি উন্নত করে, যেটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক।

পুষ্টিবিদরা বলছেন—এই সময়ের জন্য স্ন্যাকস হিসাবে বাদাম, খেজুর, কলা, অ্যাভোকাডো বা দই খুবই উপকারী। ভারী খাবার খেলে রাত্রে হজমের সমস্যা হয়, ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটে। তাই বিকালের নাশতায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিকালের গুরুত্ব আরও একধাপ এগিয়ে ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, এই সময়েই আমরা দিনের ক্লান্তি জমিয়ে ফেলি। যদি পরিবার, প্রকৃতি বা হালকা এক কাপ চায়ের সঙ্গে কিছু সময় ব্যয় করা যায়—তা মানসিকভাবে বিশ্রাম ও পুনর্জাগরণের ভূমিকা রাখে।

ইসলামিক স্কলাররাও বিকালকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিকাল বেলা সূরা আসর পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে, যেখানে সময়ের গুরুত্ব এবং ধৈর্যের প্রশান্তি নিয়ে আল্লাহর শপথ রয়েছে। হাদিসে পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিকাল বেলায় মসজিদে বসে সাহাবিদের সঙ্গে সময় কাটাতেন, আলোচনা করতেন।

স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে না গিয়ে এই সময়টা প্রকৃতির মাঝে, আপনজনের সঙ্গে, বা নিজেকে কিছুটা সময় দিলে শুধু মন নয়—পুরো দিনটাই হয়ে উঠতে পারে ইতিবাচক ও প্রভাবশালী।