Dhaka ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

মিনিকেট চালের নামে প্রতারণা: সরকারি নীরবতায় সক্রিয় সিন্ডিকেট

print news

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

দেশজুড়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলছে চাল ব্যবসার এক অপসংস্কৃতি—নাম ‘মিনিকেট’। বাস্তবে এমন কোনো ধানের জাতের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘মিনিকেট’ নামে এক ধরণের চকচকে সরু চাল বছরের পর বছর বিক্রি করে আসছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। এতে যেমন প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও।

 

জাতীয় ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন চালের হাটে ‘মিনিকেট’ নামেই সবচেয়ে বেশি চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ গবেষণা বলছে, মিনিকেট কোনো বৈজ্ঞানিক জাত নয়, এটি মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান থেকে তৈরি। এগুলোকে আধুনিক রাইস মিলের মাধ্যমে চেহারা বদলে চকচকে করে তোলা হয়।

 

চালের এ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণে শুধু নামের ভেলকিই নয়, বরং চলে যায় চালের পুষ্টিগুণ। খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ইউনিট (এফপিএমইউ)-এর এক গবেষণায় বলা হয়, রাইস মিলিংয়ের মাধ্যমে চাল থেকে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ হারিয়ে যায়। এতে চাল শুধু চোখ ধাঁধানো হয়, স্বাস্থ্যের জন্য কোনো খাদ্যমান থাকে না।

 

২০২১ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল প্রস্তুতকারী রাইস মিলারদের তালিকা দিতে। চার মাসের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন চেয়েছিল আদালত। কিন্তু হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা সেই রিটের কোনো জবাব দেয়নি বিগত সরকার।

 

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আবারও আদালতে লড়ব।”

 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজার সিন্ডিকেটের চাপে বিগত সরকারের নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়নি। প্রকাশ্যে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে, অথচ সরকার নীরব।”

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে খাদ্য বিভাগের মূল দায়িত্ব চালের মান নিয়ন্ত্রণ করা।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মিল মালিকরাও স্বীকার করছেন, বাজারে মিনিকেটের চাহিদার চাপেই তারা অন্য জাতের চালকে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে কম দামে কেনা চাল বেশি দামে বিক্রি করে মিল মালিকেরা কোটিপতি হচ্ছেন, আর প্রতিদিন ঠকছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

 

সরকারের একাধিক কমিটি ও গবেষণা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়নি ‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে। ফলে মিল মালিকরা চালের গায়ে ‘মিনিকেট’ নাম বসিয়ে ভোক্তাদের ভুলিয়ে যাচ্ছেন। এই চক্র বন্ধে প্রয়োজন দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, সচেতন ভোক্তা এবং কার্যকর নীতিমালা।

 

সতর্ক না হলে প্রতারণার এই চকচকে ফাঁদে প্রতিদিনই পুড়বে সাধারন মানুষের পকেট।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

মিনিকেট চালের নামে প্রতারণা: সরকারি নীরবতায় সক্রিয় সিন্ডিকেট

আপডেটের সময়: ০৪:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
print news

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

দেশজুড়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে চলছে চাল ব্যবসার এক অপসংস্কৃতি—নাম ‘মিনিকেট’। বাস্তবে এমন কোনো ধানের জাতের অস্তিত্ব না থাকলেও ‘মিনিকেট’ নামে এক ধরণের চকচকে সরু চাল বছরের পর বছর বিক্রি করে আসছে করপোরেট কোম্পানিগুলো। এতে যেমন প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও।

 

জাতীয় ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর, কারওয়ানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন চালের হাটে ‘মিনিকেট’ নামেই সবচেয়ে বেশি চাল বিক্রি হচ্ছে। অথচ গবেষণা বলছে, মিনিকেট কোনো বৈজ্ঞানিক জাত নয়, এটি মূলত ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ ধান থেকে তৈরি। এগুলোকে আধুনিক রাইস মিলের মাধ্যমে চেহারা বদলে চকচকে করে তোলা হয়।

 

চালের এ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণে শুধু নামের ভেলকিই নয়, বরং চলে যায় চালের পুষ্টিগুণ। খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ ইউনিট (এফপিএমইউ)-এর এক গবেষণায় বলা হয়, রাইস মিলিংয়ের মাধ্যমে চাল থেকে প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ হারিয়ে যায়। এতে চাল শুধু চোখ ধাঁধানো হয়, স্বাস্থ্যের জন্য কোনো খাদ্যমান থাকে না।

 

২০২১ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল প্রস্তুতকারী রাইস মিলারদের তালিকা দিতে। চার মাসের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন চেয়েছিল আদালত। কিন্তু হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা সেই রিটের কোনো জবাব দেয়নি বিগত সরকার।

 

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, “সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা আবারও আদালতে লড়ব।”

 

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজার সিন্ডিকেটের চাপে বিগত সরকারের নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর হয়নি। প্রকাশ্যে ভোক্তাদের ঠকানো হচ্ছে, অথচ সরকার নীরব।”

 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে খাদ্য বিভাগের মূল দায়িত্ব চালের মান নিয়ন্ত্রণ করা।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাসুদুল হাসান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

মিল মালিকরাও স্বীকার করছেন, বাজারে মিনিকেটের চাহিদার চাপেই তারা অন্য জাতের চালকে মিনিকেট বানিয়ে বিক্রি করেন। এভাবে কম দামে কেনা চাল বেশি দামে বিক্রি করে মিল মালিকেরা কোটিপতি হচ্ছেন, আর প্রতিদিন ঠকছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

 

সরকারের একাধিক কমিটি ও গবেষণা থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়নি ‘মিনিকেট’ চাল নিয়ে। ফলে মিল মালিকরা চালের গায়ে ‘মিনিকেট’ নাম বসিয়ে ভোক্তাদের ভুলিয়ে যাচ্ছেন। এই চক্র বন্ধে প্রয়োজন দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, সচেতন ভোক্তা এবং কার্যকর নীতিমালা।

 

সতর্ক না হলে প্রতারণার এই চকচকে ফাঁদে প্রতিদিনই পুড়বে সাধারন মানুষের পকেট।