
◼️দেলোয়ার খান–স্টাফ রিপোর্টার
সম্প্রতি উপদেষ্টা জনাব আসিফ নজরুলের কিছু মন্তব্য চিকিৎসক সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই মন্তব্যে অনেক চিকিৎসকের মনে আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন ডা. তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, “আসিফ নজরুলের কথায় ডাক্তারদের মনে কষ্ট জমায়। তবে পরে উনি ক্ষমা চেয়েছেন। এমন ক্ষমা আমাদের সমাজে অনেকেই চেয়েছেন, তবে সুন্দরভাবে মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন একজন।”
ডা. তানভীর আহমেদ আরও বলেন, কথাটি অতিরিক্ত টেস্ট করার প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, কিভাবে হেপাটাইটিস বি রোগীর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি বলেন, রোগীর ইতিহাস ও পারিবারিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন টেস্ট—যেমন HBeAg, Anti-HBe, HBV DNA (rtPCR), ALT, AST, CBC, USG, Fibroscan, AFP ও প্রয়োজনে Triphasic CT scan—নির্ধারণ করা হয়।
ডা. তানভীর আহমেদ উল্লেখ করেন, অনেক রোগী পরীক্ষা করানো হলেও নিয়মিত ফলোআপ না নেওয়ায় রোগের অবস্থা খারাপ হতে পারে। তিনি বলেন, “রোগী যদি নিয়মিত ফলোআপ না নেন, তবে সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার আগেই জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। তাই আবেগ নয়, জ্ঞান এবং সতর্কতার মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।”
চিকিৎসকরা এখন হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা এবং ভ্যাকসিনেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডা. তানভীর আহমেদ জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৭০–৮০ লাখ মানুষ জানেনই না যে তার শরীরে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস লুকিয়ে আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে SDG লক্ষ্য অর্জনের জন্য রোগীদের সচেতন করা ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যের ফলে চিকিৎসক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তার আবেগপ্রবণ মন্তব্যকে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এ ঘটনা স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী সচেতনতার গুরুত্ব পুনঃউজ্জীবিত করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 


























