
◼️ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা খুনিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল—
‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’,
‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’
‘৪০ দিন পেরিয়ে গেল, হিসাব কই?’
‘রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাই, খুনি কেন বাইরে?’
‘বিচার কী ঢাবিই পাবে, ইবি পাবে না?’
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ইত্যাদি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের আবির হাসান, আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের হাফিজুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মাইনুল হাসান, নাজমুল হাসান জিহাদ, রাফিসহ আরও অনেকে।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, “সাজিদের মতো একজন প্রতিভাবান শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড নিছক ব্যক্তিগত নয়, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্রের হাত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চুপ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব। আমরা জানতে চাই—আমাদের ভাই মরলো কেন? খুনিরা কেন এখনো ধরা পড়েনি? যদি দ্রুত বিচার না হয়, খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে আমরা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ হাসান বলেন, “৪০ দিন পার হয়েছে, কিন্তু এখনও খুনিরা ধরা পড়েনি। তারা মুক্ত আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যা আমাদের সবার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। আমাদের ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আমরা থামবো না। প্রয়োজন হলে এই আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ঢাকার যমুনা পর্যন্ত যাবে, তবুও সেই হত্যাকারীদের ছাড়বো না।”
উল্লেখ্য, সাজিদ আব্দুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ জুলাই অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং শাহ আজিজুর রহমান হলের পুকুরে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রতিবেদকের নাম 
























