রোকনুজ্জামান রুবেল,
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: শনিবার ( ১৫ জুন ২০২৪ ইং)
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ৫শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার দিনটি উৎসব মুখর হয়ে ওঠে উপজেলার তুলশীগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে ঐতিহ্যবাহী সন্ন্যাসতলী মেলাকে কেন্দ্র করে।
একদিন ব্যাপী এই মেলা আয়োজন করা হলেও মেলা চলে শনিবার পর্যন্ত। এ মেলাকে ঘিরে শিশু-কিশোরসহ নানান বয়সের মানুষ মেতে উঠে বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবে। এ মেলার মূল আকর্ষণই ঘুড়ি।
মেলা আয়োজক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্ন্যাস ঠাকুরের পুজা উপলক্ষে, ক্ষেতলাল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর-জিয়াপুর গ্রামের তুলসীগঙ্গা নদীর কোলঘেঁষে বসে ৫শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সন্ন্যাসতলীর মেলা।
এ মেলাকে কেন্দ্র করে হরেক রকম ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবে নানা বয়সের মানুষ মেতে উঠে । কার ঘুড়ি কত উঁচুতে উঠে আর কে কার ঘুড়ির সুতা কেটে দিতে পারে, দিন ভর চলে এমন প্রতিযোগীতা। গ্রামীণ এই মেলাকে কেন্দ্র করে আশে-পাশের গ্রামের বাড়ি-বাড়ি মেয়ে-জামাইসহ আত্নীয় স্বজনের আগমন ঘটে। এ মেলার মূল আর্কষন নানা রকমের ঘুড়িসহ বাঁশের তৈরী মাছ শিকারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফলমুল, হরেক রকমের মিষ্টি, বাঁশের তৈরী সাংসারিক কাজে ব্যবহত বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র এবং কাঠের আসবাবপত্র পাওয়া যায় এ মেলায়। সাথে আছে বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান। মেলার দ্বিতীয় দিন শনিবার মেলা উন্মুক্ত থাকে মেয়েদের কেনা কাটার জন্য। ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মেলাস্থল সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। শুক্র থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের সমাগমে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
জিয়াপুর গ্রামের জাহিদুর রহমান, বলেন, জন্মের পর থেকে এই মেলা দেখে আসতেছি। ঐতিহ্যবাহী সন্ন্যাসতলীর এই মেলায় দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস কিনতে আশপাশের জেলা থেকে অনেক মানুষ আসে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহজাহান আলী ভুট্টু, বলেন, তার বাপ-দাদাসহ পূর্ব পুরুষেররা এই মেলা করে গেছেন। এই মেলার আনুমানিক বয়স ৫শ বছর। প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে সন্ন্যাসতলী মেলা। মেলাটি হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে পরিচালনা করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা মেলায় আসেন।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, সন্ন্যাসতলী মেলা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে হলেও বর্তমানে সব ধরনের মানুষের মিলনমেলা পরিনত হয়েছে। এ মেলাকে ঘিরে আশপাশের জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে। তাই সকলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 










