Dhaka ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

আদিতমারীতে পরিত্যক্ত চুল ব্যবহারের মাধ্যমে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৫২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ২৮০ সময় দেখুন
print news

মো:সাদেকুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: একসময় দেখা যেতো মা-বোনরা চিরনি দিয়ে মাথা আঁচড়াতো। একে অপরের চুল আঁচড়িয়ে দিতো। বিকালবেলা বাড়ির উঠোনে বা ঘরের বারান্দায় চলতো, চুল আঁচড়ানোর প্রতিযোগিতা। আঁচড়ানের সময় চিরনিতে কিছু ছেঁড়া চুল লেগে থাকতো। সেগুলো মুড়িয়ে থুতু দিয়ে ফেলে দিতো। সব মায়েরা ছেঁড়া চুলে থুতু দিয়ে ফেলতো কিনা তা জানা নেই। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মা-বোনরাই, ছেঁড়া চুল থুতু দিয়ে বেশি ফেলতো। ছেঁড়া চুলে থুতু না দিয়ে ফেললে নাকি, মাথার চুল ঝরে পড়ে যায়। এটা ছিল আগেকার বুড়ো বুড়িদের একটা কুসংস্কার রটানো কথা। আর পুরুষ মানুষের মাথার চুল কেটে সাধারণত ফেলেই দেওয়া হতো। পুরুষের কাটা চুল ফেলার কোনও নিয়মকানুন ছিল না, এখনো নেই। এখন নারীপুরুষের কারোর চুলই ফেলনা নয়। এগুলো এখন খুবই মূল্যবান জিনিস। সময়সময় দেখা যায়, শহরের চুল কাটার দোকান (সেলুন)-এর নিচ থেকে পরিত্যক্ত চুল অনেককে কুড়িয়ে নিতে। আবার গৃহিণী মা-বোনেরা তাদের মাথার পরিত্যক্ত চুল মুড়িয়ে রেখে দেয়, ঘরের কোণে বা কোনও পটের ভেতর। সময়মত এগুলো দিয়ে রাখা হয় নানারকম জিনিসপত্র সহ শিশুদের হরেকরকমের খেলনা।
কিন্তু আগেকার সময় কেউ ভাবেনি যে, এই ফেলে দেওয়া চুল একদিন বিদেশে রফতানি হবে। যা দিয়ে আমাদের দেশ আয় করবে বৈদেশিক মুদ্রা। এখন প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রকার পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে, তার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ফেলে দেওয়া এই চুল। জানা যায় চুল রফতানি করেই প্রতিবছর দেশের আয় হচ্ছে, কোটি কোটি টাকারও বেশি। আবার এরমধ্যে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা। দূর হচ্ছে বেকারত্বের অভিশাপ, স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেক মানুষ। মানুষের মাথার পরিত্যক্ত চুল এখন একরকম বিশেষ ধরনের রপ্তানি যোগ্য পণ্য।সাপটিবাড়ি এলাকায় ২০২০ সালে মহসিন ক্ষুদ্র পরিসরে এই প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। বর্তমানে এখানে ৮০ জন নারী পরিত্যাক্ত চুল পুনরায় স্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। সাপটিবাড়ি বাজার সংলগ্ন টাওয়ার পাড়া এলাকায় জিহাদ  ক্যাপ ট্রেডাস   নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে  প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

আদিতমারীতে পরিত্যক্ত চুল ব্যবহারের মাধ্যমে ভাগ্য গড়ার স্বপ্ন

আপডেটের সময়: ১২:৫২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
print news

মো:সাদেকুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: একসময় দেখা যেতো মা-বোনরা চিরনি দিয়ে মাথা আঁচড়াতো। একে অপরের চুল আঁচড়িয়ে দিতো। বিকালবেলা বাড়ির উঠোনে বা ঘরের বারান্দায় চলতো, চুল আঁচড়ানোর প্রতিযোগিতা। আঁচড়ানের সময় চিরনিতে কিছু ছেঁড়া চুল লেগে থাকতো। সেগুলো মুড়িয়ে থুতু দিয়ে ফেলে দিতো। সব মায়েরা ছেঁড়া চুলে থুতু দিয়ে ফেলতো কিনা তা জানা নেই। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মা-বোনরাই, ছেঁড়া চুল থুতু দিয়ে বেশি ফেলতো। ছেঁড়া চুলে থুতু না দিয়ে ফেললে নাকি, মাথার চুল ঝরে পড়ে যায়। এটা ছিল আগেকার বুড়ো বুড়িদের একটা কুসংস্কার রটানো কথা। আর পুরুষ মানুষের মাথার চুল কেটে সাধারণত ফেলেই দেওয়া হতো। পুরুষের কাটা চুল ফেলার কোনও নিয়মকানুন ছিল না, এখনো নেই। এখন নারীপুরুষের কারোর চুলই ফেলনা নয়। এগুলো এখন খুবই মূল্যবান জিনিস। সময়সময় দেখা যায়, শহরের চুল কাটার দোকান (সেলুন)-এর নিচ থেকে পরিত্যক্ত চুল অনেককে কুড়িয়ে নিতে। আবার গৃহিণী মা-বোনেরা তাদের মাথার পরিত্যক্ত চুল মুড়িয়ে রেখে দেয়, ঘরের কোণে বা কোনও পটের ভেতর। সময়মত এগুলো দিয়ে রাখা হয় নানারকম জিনিসপত্র সহ শিশুদের হরেকরকমের খেলনা।
কিন্তু আগেকার সময় কেউ ভাবেনি যে, এই ফেলে দেওয়া চুল একদিন বিদেশে রফতানি হবে। যা দিয়ে আমাদের দেশ আয় করবে বৈদেশিক মুদ্রা। এখন প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রকার পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে, তার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ফেলে দেওয়া এই চুল। জানা যায় চুল রফতানি করেই প্রতিবছর দেশের আয় হচ্ছে, কোটি কোটি টাকারও বেশি। আবার এরমধ্যে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা। দূর হচ্ছে বেকারত্বের অভিশাপ, স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেক মানুষ। মানুষের মাথার পরিত্যক্ত চুল এখন একরকম বিশেষ ধরনের রপ্তানি যোগ্য পণ্য।সাপটিবাড়ি এলাকায় ২০২০ সালে মহসিন ক্ষুদ্র পরিসরে এই প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। বর্তমানে এখানে ৮০ জন নারী পরিত্যাক্ত চুল পুনরায় স্থাপনের মাধ্যমে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। সাপটিবাড়ি বাজার সংলগ্ন টাওয়ার পাড়া এলাকায় জিহাদ  ক্যাপ ট্রেডাস   নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে  প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি।