
মো:সাদেকুল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাটর আদিতমারী উপজেলায় মালদহ নদীর দুই পারে চলাচলের জন্য ১৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা। এই নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশুশিক্ষার্থীসহ এই জনপদের লাখো মানুষকে। স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে নৌকায় চলাচল করলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তারা বলছেন, একটি সেতুর জন্য আর কত অপেক্ষা করতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার আদিতমারী উপজেলার মালদহ নদী পার হয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে মহিষতুলি, বারঘড়ি, দুলালী, তালুক দুলালী, লেহাকুচি, ফলিমারি, পাঠানঝাড়, শঠিবাড়ী, ভিতরকুঠি, দুর্গাপুর, কর্ণপুর ও মোগলহাটসহ ১৫ গ্রামের লাখো মানুষকে। এছাড়া, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে দুলালী হাই স্কুল , মহিষতুলি হাই স্কুল, লোহাকুচি হাই স্কুল, ফলিমারি বালিকা বিদ্যালয় ও শঠিবাড়ি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীদের । সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য কেনা-বেচা ও যাতায়াতের জন্য নৌকাই একমাত্র ভরসা।
বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, প্রায় ১৫০ মিটার প্রশস্ত মালদহ নদীতে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় পারাপারে মাঝেমধ্যে শিক্ষার্থীরা বেশি বিপাকে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, এই নদীর ওপর একটি সেতু হলে ১৫ গ্রামের লাখো মানুষের যোগাযোগের পথ সুগম হবে।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ও দুর্গাপুর ইউনিয়নর মধ্য দিয়ে চলে গেলে মালদহ নদী। প্রবহমান ওই নদীতে এক সময় বর্ষাকালে মাছ ধরার ধুম পড়ে যেতো। অর্ধশত বছরেরও বেশি আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) বেড়িবাঁধ তৈরির সময় ওই নদীর মুখে স্লুইস গেট তৈরি করা হয়। এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ কমে গিয়ে ধীরে ধীরে নদীটি খালে পরিণত হয়।
মহিষতুলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে বিদ্যালয় আসা-যাওয়া করতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘কয়েকবার সেতুর জন্য পরিমাপ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আর কোনো কাজের অগ্রগতি হয়নি।দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা সালেকুজ্জামান সালেক বলেন , ‘এই অঞ্চলের মানুষের দাবি, ভেলাবাড়ি ও দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন করে রাখা মালদহ নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হোক।’
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ রুবেল বলেন, ‘মালদহ নদীতে সেতু তৈরির জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’ শিগগিরই সেতু তৈরি হবে বলেও তিনি জানান।সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে ব্যর্থ হন।
প্রতিবেদকের নাম 










