Dhaka ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

অবশেষে মধ্যরাতে হাসিনুরের মর*দে*হ ফেরত দিলো ভারতীয় বিএসএফ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৯১ সময় দেখুন
print news

মো: সিরাজুল ইসলাম পলাশ,আদিতমারী প্রতিনিধি: রাত ১১ টা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার খারিজা জোংড়া সীমান্তে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় আছে একটি পরিবার। পরিবারটির সাথে সংবাদকর্মীদেরও দীর্ঘ অপেক্ষা। সবার নজর সীমান্তের ওপারে। একটি কফিনবন্দি লাশের জন্য। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে লাশ হওয়া যুবকের বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার।

রাত ১১ টার কিছুক্ষণ পর। কফিনবন্দি সেই যুবককে সীমান্তে নিয়ে আসল বিএসএফ। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছেলের নিথর দেহের স্পর্শ পেলেন হতভাগা বাবা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘ক্যানে ঘাস কাটতে গেছলু বাবা…।‘

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক হাসিবুল ইসলামের (২৫) লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১ টার পরে বাংলাদেশের বিজিবি ও পুলিশের নিকট লাশ তুলে দেয় বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ। নিহত হাসিনুর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮ টায় ভারতের কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাসিবুল। এর আগে ওইদিন দুপুর পৌনে ১ টার দিকে সীমান্তে তাকে গুলি করে বিএসএফ। পরদিন বৃহস্পতিবার ভারতের কোচবিহারের হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে রাত ১১ টার দিকে পরিবারের নিকট নিহত হাসিবুল ইসলামেকে ফেরত দেওয়া হয়।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৮১ নম্বর ও উপপিলার ১৩ এর ভারতের কোচবিহার জেলার শীতলকুচি থানার সীমান্ত ও বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রামের খারিজা জোংড়া সীমান্তবর্তী স্থান দিয়ে লাশ হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহেশমারী ক্যাম্পের কমান্ডার রাজ কুমার, শীতলকুচি থানার ওসি ও বাংলাদেশের ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের খারিজা জোংড়া ক্যাম্পের প্রতিনিধি সুবেদার রেজাউল ইসলাম, পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজরুল ইসলাম এবং নিহত যুবকের বাবা জাহিদুল ইসলাম ও চাচা রশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের নিকট লাশ বুঝে নেয় বিজিবি ও বাংলাদেশের পুলিশ। রাতই লাশ নিহতের বাবা ও চাচার নিকট হস্তান্তর করে থানা পুলিশ।

নিহত যুবকের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল সে দুপুরের দিকে গরুর জন্য সীমান্তে ঘাস কাটতে যায়। সেখানে বিএসএফ আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে গুলি করে ও নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলে। ওরা তার লাশ ভারতে নিয়ে যায়। সারাদিন টালবাহানার পরে রাত ১২ টায় লাশ আমাদের হাতে দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা এর বিচার চাই।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ বাংলাদেশের পুলিশ এবং বিজিবির নিকট লাশ হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতই লাশ নিহতের বাবা এবং চাচাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, মরদেহ হস্তান্তরের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসিনুরের নিথর দেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিনবন্দি সন্তানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিনুরের বাবা-মা, স্ত্রী ও স্বজনেরা। তাদের আহাজারিতে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো গ্রামবাসী সমবেদনা জানাতে ভিড় করেন। এই শোকাতুর পরিবেশেই রাত প্রায় ১ টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ব্যাপারে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) এর সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।

গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ৮৯৪ নম্বর প্রধান ও ৬ নম্বর উপপিলারের নিকটবর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী সীমান্ত এলাকায় কয়েকজনের সাথে ঘাস কাটতে যায় হাসিবুল ইসলাম। এ সময় ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ফুলবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে। এতে গুলি লেগে হাসিবুল মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে রাইফেলের বাট ও হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মেরে টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে হাসিবুলকে শীতলকুচি থানার স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে সেখানে মারা যায় হাসিবুল।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

অবশেষে মধ্যরাতে হাসিনুরের মর*দে*হ ফেরত দিলো ভারতীয় বিএসএফ

আপডেটের সময়: ০৬:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
print news

মো: সিরাজুল ইসলাম পলাশ,আদিতমারী প্রতিনিধি: রাত ১১ টা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার খারিজা জোংড়া সীমান্তে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় আছে একটি পরিবার। পরিবারটির সাথে সংবাদকর্মীদেরও দীর্ঘ অপেক্ষা। সবার নজর সীমান্তের ওপারে। একটি কফিনবন্দি লাশের জন্য। সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে লাশ হওয়া যুবকের বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার।

রাত ১১ টার কিছুক্ষণ পর। কফিনবন্দি সেই যুবককে সীমান্তে নিয়ে আসল বিএসএফ। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ছেলের নিথর দেহের স্পর্শ পেলেন হতভাগা বাবা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘ক্যানে ঘাস কাটতে গেছলু বাবা…।‘

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক হাসিবুল ইসলামের (২৫) লাশ ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১১ টার পরে বাংলাদেশের বিজিবি ও পুলিশের নিকট লাশ তুলে দেয় বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ। নিহত হাসিনুর লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।

নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাত ৮ টায় ভারতের কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাসিবুল। এর আগে ওইদিন দুপুর পৌনে ১ টার দিকে সীমান্তে তাকে গুলি করে বিএসএফ। পরদিন বৃহস্পতিবার ভারতের কোচবিহারের হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে রাত ১১ টার দিকে পরিবারের নিকট নিহত হাসিবুল ইসলামেকে ফেরত দেওয়া হয়।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৮১ নম্বর ও উপপিলার ১৩ এর ভারতের কোচবিহার জেলার শীতলকুচি থানার সীমান্ত ও বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রামের খারিজা জোংড়া সীমান্তবর্তী স্থান দিয়ে লাশ হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহেশমারী ক্যাম্পের কমান্ডার রাজ কুমার, শীতলকুচি থানার ওসি ও বাংলাদেশের ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের খারিজা জোংড়া ক্যাম্পের প্রতিনিধি সুবেদার রেজাউল ইসলাম, পাটগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজরুল ইসলাম এবং নিহত যুবকের বাবা জাহিদুল ইসলাম ও চাচা রশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের নিকট লাশ বুঝে নেয় বিজিবি ও বাংলাদেশের পুলিশ। রাতই লাশ নিহতের বাবা ও চাচার নিকট হস্তান্তর করে থানা পুলিশ।

নিহত যুবকের বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল সে দুপুরের দিকে গরুর জন্য সীমান্তে ঘাস কাটতে যায়। সেখানে বিএসএফ আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে গুলি করে ও নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলে। ওরা তার লাশ ভারতে নিয়ে যায়। সারাদিন টালবাহানার পরে রাত ১২ টায় লাশ আমাদের হাতে দেয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমরা এর বিচার চাই।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ বাংলাদেশের পুলিশ এবং বিজিবির নিকট লাশ হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতই লাশ নিহতের বাবা এবং চাচাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, মরদেহ হস্তান্তরের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসিনুরের নিথর দেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কফিনবন্দি সন্তানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিনুরের বাবা-মা, স্ত্রী ও স্বজনেরা। তাদের আহাজারিতে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো গ্রামবাসী সমবেদনা জানাতে ভিড় করেন। এই শোকাতুর পরিবেশেই রাত প্রায় ১ টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ব্যাপারে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২) এর সংশ্লিষ্ট বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি।

গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পিলার ৮৯৪ নম্বর প্রধান ও ৬ নম্বর উপপিলারের নিকটবর্তী হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগীমারী সীমান্ত এলাকায় কয়েকজনের সাথে ঘাস কাটতে যায় হাসিবুল ইসলাম। এ সময় ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ফুলবাড়ি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছুড়ে। এতে গুলি লেগে হাসিবুল মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে রাইফেলের বাট ও হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মেরে টেনেহিঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে হাসিবুলকে শীতলকুচি থানার স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় অবস্থার অবনতি হলে কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে সেখানে মারা যায় হাসিবুল।