
মেহেদী হাসান শুভ্র- সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি◼️
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বেড়াখারুয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে পানি জমে থাকায় মৃতদেহ দাফনে হতো সীমাহীন দুর্ভোগ। কোনো সরকারি সহায়তা বা উদ্যোগ না থাকায় অবশেষে এগিয়ে আসে গ্রামের একঝাঁক মানবিক তরুণ।
তারা নিজেদের উদ্যোগে এবং ব্যক্তি অর্থায়নে শুরু করেছেন কবরস্থানের মাটি ভরাট ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাউন্ডারির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয়ভাবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোঃ খালিদ আল মামুন প্রিন্স। তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। আমরা নিঃস্বার্থভাবে এই কাজ করছি। মানুষের শেষ ঠিকানাটি যেন সম্মানের সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য হয়, সে চেষ্টাই করছি।”
এই উদ্যোগে এলাকার যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা নিজেদের শ্রম ও অর্থে অবদান রাখছেন। গ্রামের প্রবীণদের অনেকে বলেন, “বন্যার সময় কবর দিতে গিয়ে আমরা বহু সমস্যায় পড়েছি। এখন আমাদের যুবকদের কারণে নিজ গ্রামেই সম্মানজনকভাবে দাফনের ব্যবস্থা হচ্ছে।”
গ্রামের বাসিন্দা ও কবরস্থানে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, এটি সম্পূর্ণই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেওয়া উদ্যোগ। কোনো প্রকার তহবিল বা সরকারি সহায়তা ছাড়াই নিজেদের প্রয়োজন আর সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁরা এগিয়ে এসেছেন।
স্থানীয় ইউপি ও সমাজপতিদের অনেকে জানান, কবরস্থানটি ভবিষ্যতে একটি মডেল কবরস্থানে রূপান্তরের সম্ভাবনা রাখে, যদি সমাজের আরও বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন।
এই মহতী উদ্যোগ সিরাজগঞ্জসহ দেশের অন্যত্রও যুব সমাজকে উদ্দীপনা জোগাবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
প্রতিবেদকের নাম 










