Dhaka ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ বগুড়ায় জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ নরসিংদীতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে কৃষক দলের প্রস্তুতি সভা নরসিংদীতে ২ মাসের নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল বর্বরতা নরসিংদীর মাদকের আস্তানায় র‍্যাবের অভিযান: অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার সুনামগঞ্জে ২৪ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি আটক বগুড়ার কাহালুতে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ কমাতে সরাসরি মাঠে ইউএনও বগুড়া শহরে মাদকবিরোধী অভিযান: ১০ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড নরসিংদীতে টানা বর্ষণে লাখো মানুষ পানিবন্দি, দেয়াল ধসে বৃদ্ধার মৃত্যু কক্সবাজারের রামুতে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় সাংবাদিকের উপর হামলা: তদন্তের আগেই আসামিদের জামিন

print news

মোঃ সাকিবুল হাসান- কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি◾

 

কুমিল্লায় সাংবাদিক মো. সাফির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১১ দিন পরও আসামিদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অথচ, স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিরা হামলার পরপরই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেছেন। এ অবস্থায় অবশেষে চার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ।

 

ঘটনাটি ঘটে ৪ জুন (বুধবার) দুপুরে, কুমিল্লা দুর্গাপুর গোমতির ভেড়িবাঁধ এলাকায়। বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক মো. সাফি কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে বাবুবাজার যাচ্ছিলেন। পথে দুর্গাপুর এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে জনি, মৃত মনু মিয়ার ছেলে দুলাল, মাহাবুব ও তার ছেলে সায়িমসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং সঙ্গে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।

 

এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক সাফির মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। অভিযোগ দায়েরের এক সপ্তাহ পর, সাংবাদিকদের চাপের মুখে ১১ জুন পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলামকে আসামিদের অবস্থান জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। বরং, তদন্ত কর্মকর্তা পরে সাংবাদিক সাফিকে ফোন করে হুমকির সুরে বলেন, “আপনার বিরুদ্ধেও মামলা দিতে পারে ওরা, সাবধানে থাকেন।”

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতারা এ ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের নিন্দা জানান। সংগঠনের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, “আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা ও লজ্জার বিষয়।”

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, “পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি। বরং, আসামিদের জামিন নিতে সহায়তা করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মুহিনুল ইসলাম জানান, “আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি।” তবে তিনি তা প্রমাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেননি।

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার এমন ধীরতা ও রহস্যজনক আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সুরক্ষা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ

কুমিল্লায় সাংবাদিকের উপর হামলা: তদন্তের আগেই আসামিদের জামিন

আপডেটের সময়: ০৫:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ জুন ২০২৫
print news

মোঃ সাকিবুল হাসান- কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি◾

 

কুমিল্লায় সাংবাদিক মো. সাফির ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ১১ দিন পরও আসামিদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অথচ, স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিরা হামলার পরপরই এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেছেন। এ অবস্থায় অবশেষে চার আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজ।

 

ঘটনাটি ঘটে ৪ জুন (বুধবার) দুপুরে, কুমিল্লা দুর্গাপুর গোমতির ভেড়িবাঁধ এলাকায়। বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক মো. সাফি কুরবানির গরু কেনার উদ্দেশ্যে বাবুবাজার যাচ্ছিলেন। পথে দুর্গাপুর এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে জনি, মৃত মনু মিয়ার ছেলে দুলাল, মাহাবুব ও তার ছেলে সায়িমসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং সঙ্গে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।

 

এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক সাফির মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। অভিযোগ দায়েরের এক সপ্তাহ পর, সাংবাদিকদের চাপের মুখে ১১ জুন পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলামকে আসামিদের অবস্থান জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা। বরং, তদন্ত কর্মকর্তা পরে সাংবাদিক সাফিকে ফোন করে হুমকির সুরে বলেন, “আপনার বিরুদ্ধেও মামলা দিতে পারে ওরা, সাবধানে থাকেন।”

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের নেতারা এ ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের নিন্দা জানান। সংগঠনের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, “আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারাটা চরম ব্যর্থতা ও লজ্জার বিষয়।”

 

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, “পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ পাইনি। বরং, আসামিদের জামিন নিতে সহায়তা করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মুহিনুল ইসলাম জানান, “আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি।” তবে তিনি তা প্রমাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেননি।

 

পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়ার এমন ধীরতা ও রহস্যজনক আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সুরক্ষা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।