
আরেফিন ইসলাম⬛ নীলফামারি জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে। গত ১৫ জুন (রবিবার) এ নিয়ে দফায় দফায় মারপিটের ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও শান্তি ফেরেনি। দুই পক্ষের সাত-আটজন গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত অবস্থাতেও তারা নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
মো. ফজলুল হক অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে নিউরো সার্জারির ২৩ নম্বর বেডের পাশেই দুইজন ব্যক্তি হাত দিয়ে আমাকে আটকাতে চেয়েছিল। সামনে লোক থাকায় বেঁচে যাই।”
প্রথম পক্ষের সদস্য আজগার আলী (৩৮), ফারুক (২৫), হাসেন আলী (৩০), বেলাল মিয়া (৩৫), মিয়ার আলী (৩০), নুরনবী (৩০), রাজ্জাক ও জাকিরের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর হুমকি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০ বছর আগেই প্রথম পক্ষ ৪৮ শতক জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়েছে। তবে দ্বিতীয় পক্ষের ৬ শতক জমি ওই জমির ভেতরে ঢুকে পড়েছে বলে দাবি করা হয়। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত প্রথম পক্ষ চাষাবাদ বন্ধ রাখলেও দ্বিতীয় পক্ষ জমিতে কাজ করতে গেলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ১৪ ও ১৫ জুন সংঘটিত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “ভয় দেখাতে তারা গাছ লাগিয়েও আতঙ্ক তৈরি করেছে।”
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মনসের আলী বলেন, “আজগার আলীর সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল না। তবুও সে ছুরি-লাঠি হাতে নিয়ে হামলা চালায়। শোনা যাচ্ছে, সে টাকার বিনিময়ে এসব করেছে।”
রহিছ আলী জানান, “বাজারে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এমনকি ক্ষেতেও যেতে পারি না। একটু গেলেই ফারুক বলে, ‘ফোন দেন নাই কেন? যদি কিছু হয়?’”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আজগার আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিবাদ মেটাতে গিয়েছিলাম। ওরাই আমার ওপর চড়াও হয়ে ছুরি মেরে আহত করেছে। আমার মা, বাবা ও স্ত্রীকেও আঘাত করা হয়েছে। এখন আমার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে।”
তিনি আরও বলেন, “একশত ত্রিশটি লাঠি তৈরি করেছি—এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”
গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষজন দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যেন দুই পক্ষের মাঝে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসে।
প্রতিবেদকের নাম 



















