Dhaka ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজবাড়ীতে পিউ কর্মকার নামে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

print news

মোঃ এনামুল মন্ডল,
জেলা প্রতিনিধি,রাজবাড়ী:
📌 তার ফেইসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো :

গুচ্ছ আমার শেষ ভরসা ছিল। জিনিনা কবে রেজাল্ট দিবে। পরিক্ষাও মোটামোটি হইছিল একটা আসা ছিল কিন্তু আমার ভাগ্য সেই আসাটাও পুরন করতে দিল না। ৫ টা অপশন থাকে তার মধ্যে আমি বায়োলজি আর ইংরেজি এর বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছিলাম ভুল করে আজকে সেটা দেখলাম। কিন্তু আমি উত্তর করেছিলাম বাংলা এর। আমার সব স্বপ্ন শেষ। একে একে ঢাবি, রাবি, জাবি থেকে একটু একটুর জন্য ধাক্কা খাই। জানি এটাও আমার ভাগ্যের জন্য চেষ্টা আমার কম ছিল না। সারাদিন রাত এক করে পড়তাম। বাবা মার অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে কিন্তু আমি কিচ্ছু দিতে পারি নাই। দাদার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। আমারও স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই যে ডাক্তার হবো। আমার ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল মেডিকেল এডমিশন এর প্রিপারেশন নেওয়াও শুরু করি কিন্তু মেডিকেলেও বসতে পারি না। এটা থেকেও বিশাল একটা ধাক্কা খাই। অনেক ভেঙে পরছিলাম তাও হাল ছাড়ি নাই। এই এডমিশন পিরিয়ড টা যে কতটা কষ্ট দিছে আমাকে। এই সব আর আমি নিতে পারতেছি না। আমি শুধু একটা আশ্রয় খুজতেছিলাম শেষ আশ্রয় এটাও শেষ হইল। অনেক মানুষ অনেক আত্মীয় এর অনেক কথা শোনা লাগছে। বাবার একটু ফাইনানসিয়াল সমস্যা ছিল এজন্য যে ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধবে ছিলাম যে,

ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম যে পারব। কিন্তু আমি আর পারলাম না। সারাটাদিন ঘরের মধ্যে একা একা বসে থাকি। মানুষের কতো ফ্রেন্ড কত কিছু কিন্তু আমি আমার পাশে কাউকে পাই নাই। সব থেকে প্রয়োজন ছিল যাকে, যাকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম তাকেও আমি আমার পাশে পাই নাই। হইত আমাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ থাকলে আজকে এই মৃত্যু’টা আমার হইতো না।

সেকেন্ড টাইম এর প্রিপারেশন নেওয়ারও আমার কোন মানসিক বা শারিরীক কোন শক্তি নাই। আমার জীবনটা এখানেই থেমে গেলো। মার কাছে যায়ে মাঝে মধ্যে কাদি মাও বুঝে নাই আমাকে। আমি একটা বোঝা সবার কাছে আমার মৃত্যু’র জন্য আমার এই বড় বড় স্বপ্ন গুলোই দায়ি। আমি আমার বাবা, মার স্বপ্ন পুরন করতে পারি নাই।।। আমাকে শেষ বারের মতো দেখতে চাইলে নদীর জলেই খুইজ।

আমার মৃ’ত্যুটা এভাবেও চাই নাই
ভালো থাইকো সবাই। আমি আমার এই জীবনটা আর নিতে পারছি না। আমারে মা’ফ করে দিও সবাই। এভাবে দম বন্ধ করে বাচতে পারতেছি না আর।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজবাড়ীতে পিউ কর্মকার নামে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেটের সময়: ১২:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
print news

মোঃ এনামুল মন্ডল,
জেলা প্রতিনিধি,রাজবাড়ী:
📌 তার ফেইসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো :

গুচ্ছ আমার শেষ ভরসা ছিল। জিনিনা কবে রেজাল্ট দিবে। পরিক্ষাও মোটামোটি হইছিল একটা আসা ছিল কিন্তু আমার ভাগ্য সেই আসাটাও পুরন করতে দিল না। ৫ টা অপশন থাকে তার মধ্যে আমি বায়োলজি আর ইংরেজি এর বৃত্ত ভরাট করে ফেলেছিলাম ভুল করে আজকে সেটা দেখলাম। কিন্তু আমি উত্তর করেছিলাম বাংলা এর। আমার সব স্বপ্ন শেষ। একে একে ঢাবি, রাবি, জাবি থেকে একটু একটুর জন্য ধাক্কা খাই। জানি এটাও আমার ভাগ্যের জন্য চেষ্টা আমার কম ছিল না। সারাদিন রাত এক করে পড়তাম। বাবা মার অনেক স্বপ্ন ছিল আমাকে নিয়ে কিন্তু আমি কিচ্ছু দিতে পারি নাই। দাদার ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে। আমারও স্বপ্ন ছিল ছোট থেকেই যে ডাক্তার হবো। আমার ভাগ্য এতটাই খারাপ ছিল মেডিকেল এডমিশন এর প্রিপারেশন নেওয়াও শুরু করি কিন্তু মেডিকেলেও বসতে পারি না। এটা থেকেও বিশাল একটা ধাক্কা খাই। অনেক ভেঙে পরছিলাম তাও হাল ছাড়ি নাই। এই এডমিশন পিরিয়ড টা যে কতটা কষ্ট দিছে আমাকে। এই সব আর আমি নিতে পারতেছি না। আমি শুধু একটা আশ্রয় খুজতেছিলাম শেষ আশ্রয় এটাও শেষ হইল। অনেক মানুষ অনেক আত্মীয় এর অনেক কথা শোনা লাগছে। বাবার একটু ফাইনানসিয়াল সমস্যা ছিল এজন্য যে ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধবে ছিলাম যে,

ঢাকা যায়ে পড়তে হবে কেন। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম যে পারব। কিন্তু আমি আর পারলাম না। সারাটাদিন ঘরের মধ্যে একা একা বসে থাকি। মানুষের কতো ফ্রেন্ড কত কিছু কিন্তু আমি আমার পাশে কাউকে পাই নাই। সব থেকে প্রয়োজন ছিল যাকে, যাকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতাম তাকেও আমি আমার পাশে পাই নাই। হইত আমাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ থাকলে আজকে এই মৃত্যু’টা আমার হইতো না।

সেকেন্ড টাইম এর প্রিপারেশন নেওয়ারও আমার কোন মানসিক বা শারিরীক কোন শক্তি নাই। আমার জীবনটা এখানেই থেমে গেলো। মার কাছে যায়ে মাঝে মধ্যে কাদি মাও বুঝে নাই আমাকে। আমি একটা বোঝা সবার কাছে আমার মৃত্যু’র জন্য আমার এই বড় বড় স্বপ্ন গুলোই দায়ি। আমি আমার বাবা, মার স্বপ্ন পুরন করতে পারি নাই।।। আমাকে শেষ বারের মতো দেখতে চাইলে নদীর জলেই খুইজ।

আমার মৃ’ত্যুটা এভাবেও চাই নাই
ভালো থাইকো সবাই। আমি আমার এই জীবনটা আর নিতে পারছি না। আমারে মা’ফ করে দিও সবাই। এভাবে দম বন্ধ করে বাচতে পারতেছি না আর।