
মোঃ মাসুদ রানা,স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমানে বীমা পলিসি ছাড়াই দেশের বেশীর ভাগ যানবাহন রাস্তায় চলছে। যান চলাচলে আগে বীমার পলিসি গ্রহন করা বাধ্যতা মূলক ছিল। ২০১৮ সালে সড়ক পরিবহন আইন এর আওতায় তৎকালীন সরকার বন্ধ করে দেয়। এখন বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয়। মোটর বীমাকে সাবেক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর একটি ধারা সংশোধন প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর কারনে বর্তমানে তৃতীয় পক্ষের ঝুকি বীমা অর্থাৎ থার্ড পার্টি মোটর বীমা বন্ধ রয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ সংশোধন ব্যতিরেখে মোটর বীমা সংক্রান্ত এহেন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর একটি ধারা সংশোধনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।২০২৩ এর মার্চে এই আইন সংশো ধনের উদ্যোগ নেয় তৎকালিন সরকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। দুঃখের বিষয় অদ্যাবদি মোটর বীমার সংশোধনের এ আদেশটি আলোর মুখ দেখছে না।
বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইনে যানবাহনের যাত্রীর জন্য বীমা করা বাধ্যতামূলক ছিল বর্তমানে বাধ্যতামূলক এর পরিবর্তে ঐচ্ছিক করা হয়েছে এবং বীমা না করলে কোন শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। অন্যদিকে বিগত হাসিনা সরকার কর্তৃক সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জারির মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের ঝুকি বীমা বন্ধ থাকায় এক দিকে ক্ষতি হচ্ছে বীমা খাতের, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। আবার জনগনের নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতি পূরনের কোন ব্যবস্থা থাকছে না। আগে তৃতীয় পক্ষের ঝুকি বীমায় কেউ মারা গেলে ২০ হাজার টাকা এবং সম্পদের ক্ষতি হলে ৫০ হাজার টাকা বীমা কোম্পানীর পক্ষ থেকে দেওয়া হতো। তৃতীয় পক্ষের বীমা বন্ধ থাকায় পরিবহনের মালিকেরা কম্প্রিহেনসিভ বীমাও করছে না।
মোটর বীমা বাধ্যতামূলক নয় বিধায় গাড়ীর মালিক বিষয়টি হালকা ভাবে নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশে যে হারে সড়ক দূঃর্ঘটনার প্রবনতা বেড়ে গেছে সে হারেই মানুষ দূঃর্ঘটনায় মৃত্যূবরন করছে তার জন্য সরকার কে অনেক ভর্তূকি দিতে হয় অথচ এটা দেওয়ার কথা ছিল বীমা কোম্পানীর। তৃতীয় পক্ষের ঝুকি বীমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আরও আধুনিকায়ন ও সৃজনশীল করে
যদি পুনরায় চালু করা যায় তাহলে বীমা খাতের বিস্তার লাভে সহায়ক হবে। অন্যদিকে জনগন দূঃর্ঘটনার পর আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে সরকার কেটি কোটি টাকার রাজস্ব পেয়ে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। সড়ক দূঃর্ঘটনা এবং শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে তৃতীয় পক্ষের ঝুকি বীমার আদেশ অনতিবিলম্বে জারি করা দরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের মোট সংখ্যা আনুমানিক প্রায় ৬০ লক্ষের মত। বীমা বাধ্যতামূলক না থাকায় বীমাহীন যানবাহন গুলো থেকে প্রতি বছর সরকার ভ্যাট ও ষ্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ
সর্বসাকুল্লে প্রায় ৮৭৮ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবহন আইন শিথিল করলে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ আনন্দিত হলেও সড়কে বিশৃংখলা ও দূঃঘটনার ঝুকির হার বাড়বে বৈকি কমবে না যা কাহারো কাম্য নয়। সংশ্লিস্ট সবাইকে মনে
রাখতে হবে সড়কে শৃংখলা এলে কিংবা দুঃর্ঘটনা রোধ হলে যাত্রী সাধারনের পাশাপাশি এই খতের সবাই উপকৃত ও নিরাপদ থাকবেন।
প্রতিবেদকের নাম 










