Dhaka ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারি জীবিত ২ জনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৯৯ সময় দেখুন
print news

মোহাম্মদ সান,মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণ। এদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১২ জন আনসার সদস্য বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। তাদের মধ্যে জীবিত আছেন মাত্র আর ২ জন ।  প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদানকারি জীবিত দুই  আনসার সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও আজিম উদ্দিন শেখকে সম্মাননা স্মারক প্রদান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারিক ই আজম বীর প্রতীক।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত জাহান, খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হোসাইন শওকত, মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম, জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ভিডিপি কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আনসার সদস্য আজিম উদ্দিন স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, সেদিন মা, মাটি আর মানুষের মুক্তির কথা ভেবে স্বাধীনতার অকুতোভয় সূর্য সৈনিক ১২ জন আনসার জীবনের মায়া ত্যাগ করে মন্ত্রী পরিষদকে গার্ড অব অনার প্রদানে রাজি হয়েছিলেন।

তৎকালীন মেহেরপুরের পুলিশ অফিসার মাহবুবুর রহমানের (এসপি মাহবুব) নেতৃত্বে পিসি ইয়াদ আলী, আনসার সদস্য আজিমুদ্দিন শেখ, সিরাজুল ইসলাম, অস্থির মল্লিক, হামিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, লিয়াকত আলী, নজরুল ইসলাম, ফকির মোহাম্মদ, মহিউদ্দিন, কেসমত আলী ও মফিজ উদ্দিন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুজিবনগরের ভবরপাড়ার ইপিআর ক্যাম্পের সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে কুষ্টিয়া চলে যান। সে সময় ঐ ক্যাম্পের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান স্থানীয় ১২ আনসার সদস্য। ভারত থেকে যে সব খাদ্য সামগ্রী ও অস্ত্র—গোলাবারুদ, জ্বালানি তেল এদেশে আসতো সেগুলো সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা একত্র করে মেহেরপুরের তৎকালীন এসডিও তৌফিক এলাহীর হাতে তুলে দিতেন আনসার সদস্যরা। পরে এ সব সামগ্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
১৬ এপ্রিল সকালে তৌফিক এলাহি ১২ আনসার সদস্যকে ডেকে বলেন, বৈদ্যনাথ তলার আম্র কাননে কিছু মেহমান আসবেন। আপনার আয়োজন সম্পন্ন করেন। সেই কথা মতে গ্রামবাসীদের সহায়তায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থানে পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন করে কয়েকটি চৌকি এনে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। পরে এদিন রাতেই ভারতীয় ফোর্স এসে সেখানে অবস্থান নেয়। পরদিন সকালে ভারতের সীমানা পেরিয়ে বৈদ্যনাথ তলায় আসেন জাতীয় চার নেতা। সঙ্গে আসেন দেশি—বিদেশি সাংবাদিক। সেখানে জাতীয় চার নেতা শপথ নেন এবং ১২ জন আনসার সদস্যে তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর গার্ড পরিদর্শন করে তারা চলে যান।
জীবনের মায়া ত্যাগ করে এবং বুক ভরা আশা নিয়ে গার্ড অব অনার ও দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা। এদের মধ্যে আটজন নিরাশায় প্রস্থান করেছেন পরপারে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারি জীবিত ২ জনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

আপডেটের সময়: ০৯:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
print news

মোহাম্মদ সান,মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণ। এদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১২ জন আনসার সদস্য বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। তাদের মধ্যে জীবিত আছেন মাত্র আর ২ জন ।  প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদানকারি জীবিত দুই  আনসার সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও আজিম উদ্দিন শেখকে সম্মাননা স্মারক প্রদান মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারিক ই আজম বীর প্রতীক।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত জাহান, খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হোসাইন শওকত, মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ, পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম, জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ভিডিপি কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আনসার সদস্য আজিম উদ্দিন স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, সেদিন মা, মাটি আর মানুষের মুক্তির কথা ভেবে স্বাধীনতার অকুতোভয় সূর্য সৈনিক ১২ জন আনসার জীবনের মায়া ত্যাগ করে মন্ত্রী পরিষদকে গার্ড অব অনার প্রদানে রাজি হয়েছিলেন।

তৎকালীন মেহেরপুরের পুলিশ অফিসার মাহবুবুর রহমানের (এসপি মাহবুব) নেতৃত্বে পিসি ইয়াদ আলী, আনসার সদস্য আজিমুদ্দিন শেখ, সিরাজুল ইসলাম, অস্থির মল্লিক, হামিদুল ইসলাম, সাহেব আলী, লিয়াকত আলী, নজরুল ইসলাম, ফকির মোহাম্মদ, মহিউদ্দিন, কেসমত আলী ও মফিজ উদ্দিন অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুজিবনগরের ভবরপাড়ার ইপিআর ক্যাম্পের সদস্যরা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে কুষ্টিয়া চলে যান। সে সময় ঐ ক্যাম্পের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান স্থানীয় ১২ আনসার সদস্য। ভারত থেকে যে সব খাদ্য সামগ্রী ও অস্ত্র—গোলাবারুদ, জ্বালানি তেল এদেশে আসতো সেগুলো সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা একত্র করে মেহেরপুরের তৎকালীন এসডিও তৌফিক এলাহীর হাতে তুলে দিতেন আনসার সদস্যরা। পরে এ সব সামগ্রী দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
১৬ এপ্রিল সকালে তৌফিক এলাহি ১২ আনসার সদস্যকে ডেকে বলেন, বৈদ্যনাথ তলার আম্র কাননে কিছু মেহমান আসবেন। আপনার আয়োজন সম্পন্ন করেন। সেই কথা মতে গ্রামবাসীদের সহায়তায় বর্তমান মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের স্থানে পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন করে কয়েকটি চৌকি এনে একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়। পরে এদিন রাতেই ভারতীয় ফোর্স এসে সেখানে অবস্থান নেয়। পরদিন সকালে ভারতের সীমানা পেরিয়ে বৈদ্যনাথ তলায় আসেন জাতীয় চার নেতা। সঙ্গে আসেন দেশি—বিদেশি সাংবাদিক। সেখানে জাতীয় চার নেতা শপথ নেন এবং ১২ জন আনসার সদস্যে তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর গার্ড পরিদর্শন করে তারা চলে যান।
জীবনের মায়া ত্যাগ করে এবং বুক ভরা আশা নিয়ে গার্ড অব অনার ও দেশ মাতৃকার মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তারা। এদের মধ্যে আটজন নিরাশায় প্রস্থান করেছেন পরপারে।