
মো:সাদেকুল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট-বুড়িমারী আন্তর্জাতিক মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। এই সড়কে যারা চলাচল করেন তারা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলেন। মহাসড়কটির প্রতিটি পদে পদে ক্রুটিপূর্ণ কানা বাঁক, রেলক্রস, আঁকাবাঁকা। পুলিশ পোটকল নিয়ে চলা মন্ত্রীও এই সড়কে দুর্ঘটনায় পড়ে অল্পতে প্রাণ বেঁচে যায়। গত ১০ দিনে ৫ জনের মৃত্যু ও ৫০ জন আহত হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলা সদর ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তর চতুর্থ দেশীয় আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক। এই রাস্তা টি লালমনিরহাট জেলার একমাত্র জাতীয় মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ১৭ বছর এই জাতীয় সড়কের কোন উন্নয়ন করেনি। সড়ক ভবন সূত্রে জানা যায় আমাদের পার্শ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রামে গত বছর ওই জেলার উন্নয়নে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা সেখানে আমাদের জেলা লালমনিরহাট৬০ কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি। এ দায়ভার কার আমি মনে করি যাদেরকে এলাকার লোক ভোট দেয়নি যারা বিনা ভোটে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিল ওই সকল জনপ্রতিনিধি এমপি মন্ত্রীদের। নিজেদের উন্নয়ন করেছেন জনগণের কথা একটি বারও ভাবেননি। অথচ জেলার সংসদীয় আসন তিনটি পাটগ্রাম হাতীবান্ধা ১ আদিতমারী কালিগঞ্জ ২ লালমনিরহাট সদর ৩।তিনজন জনপ্রতিনিধি জেলার উন্নয়নে কাজ করেন একই রাস্তায় চলাচল করেন। আমি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে বলতে চাই এ দায়ভার কার জনগণের না জনপ্রতিনিধির?এই তো গত মাসে ৫ জন সাংবাদিক সংবাদ ও সাংবাদিকতার কাজে কালীগঞ্জ গিয়েছিলেন রাতে ফেরার পথে স্বর্ণামতি ব্রীজ এর ঠিক পশ্চিম পাশে রাস্তার উপর পড়ে গিয়ে আহত হন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ: সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মিজানুর রহমান মিলন।অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বর্তমান তার পা দুটো কেটে ফেলা হয় এখন তিনি চিরতরে পঙ্গু। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সাংবাদিক মিলন এ দায়ভার কার? এর এক বছর আগে রিপোর্টাস ইউনিট লালমনিহাট জেলা শাখার সভাপতি হাতীবান্ধার সাংবাদিক ইউনুস পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। সাংবাদিক মারা যাওয়ার এক মাস পর লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদের প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার সপটানা নিবাসী মোজাম্মেল হক ঠিকাদার সড়ক দুর্ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের পূর্ব দিকে মৃত্যুবরণ করেন। এই রাস্তায় যেন প্রতিনিয়ত চলে মৃত্যুর মিছিল। এই দুর্ঘটনা থেকে লালমনিহাট জেলা বাসি পরিত্রাণ চায়।তাই দ্রুত সড়কটি সম্প্রসারণ করে দুর্ঘটনার হাত থেকে জেলাবাসী কে মুক্তি দেয়ার জন্য লালমনিরহাট জেলায় সকল সরকারি কর্মকর্তা সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সকল পেশার মানুষ কে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করছি। যেখানে লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারীর পাথর দিয়ে সারা বাংলাদেশে উন্নয়ন হয় সেখানে লালমনিরহাট বৈষম্যের শিকার কেন।
জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হতে পহেলা মার্চ ১০ দিনে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে ট্রাক, বাস ও কার্ভাটভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেছে কমপক্ষে ৫ জনের, আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জন। ১৯ ফেব্রুয়ারি কাকিনায় একটি নৈশকোচ উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়, এতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩৫ জন। একই দিনে জেলার বুড়িমারী আন্তর্জাতিক সড়কের পাটগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় আমিনুর রহমান (৩০) ও সহিদার রহমান (৫০) নামের দুই পথচারী নিহত হয়।
গত ২ফেব্রুয়ারি আব্দুল্লাহ (১২) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থী লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বিনিময় ফিলিংস স্টেশনের সামনে ২২ চাকার লরির চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। হাড়িভাঙার তালিমুল ইনসান কওমি হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি আদিতমারী উপজেলার সাপ্টীবাড়িতে বুড়িমারী সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় ফরিদুল ইসলাম (২৮) নামে এক ট্রলিচালক নিহত হন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ওয়াবদা বাজার সড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী ৫ কলেজ শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের একজন সোহেল অনার্স পরীক্ষার্থী মারা যান। এছাড়াও কয়েক বছর আগে এই মহাসড়কের রেলওয়ে ক্রসিংয়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মোতাহার হোসেন এমপির গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাণে রক্ষায় পেয়ে যান মন্ত্রী। কয়েক বছর পাটগ্রামের বুড়িমারীতে ট্রাকের চাপায় দুই পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যায়।
লালমনিরহাট-বুড়িমারী আন্তর্জাতিক মহাসড়কটি মরণ ফাঁদ। যার প্রধান কারণ রাস্তাটি দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ ক্রুটিপূর্ণ। এই রাস্তাটি এক সময় ছিল গরুর গাড়ি চালানোর রাস্তা। সেটিকে ১৯৮৮ সালে সড়ক ও জনপদের রাস্তা ঘোষণা করা হয়। রাস্তাটি নির্মাণের সময় দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলে গতি জড়তা, প্রতিটি মোড় প্রায় ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল, ঘরবাড়ি গাছপালা থাকায় একপাশ হতে অন্য পাশে দেখার কোনো উপায় নেই।
লালমনিরহাট-পাটগ্রাম রেল লাইনটি আন্তর্জাতিক মহাসড়কটির উপর দিয়ে ১৪ বার ক্রস করেছে। একটিও রেলক্রসিংয়ে রেলকর্মী নেই। রাস্তায় ৩৫টি জায়গায় এমনভাবে রাস্তাটি চলে গেছে সেখানে সৃষ্টি হয় গতি জড়তা। জেলার প্রধান এই সড়কটির ২০/২৫টি জায়গায় গ্রামীণ অঞ্চলিক সড়ক এসে সংযোগ হয়েছে। ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলের প্রতিটি মোড় মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশাল আকারের লরিগুলো এখানে ঘুরতে গিয়ে সমস্যায় পরে।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোড় শহরের মিশনমোড়, সাপ্টীবাড়ি মোড়, কাকিনা মোড়, উত্তরবাংলা মোড়, তুষভান্ডার হাই স্কুল মোড়, হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড়, পাটগ্রাম কলেজ মোড়, পাটগ্রাম বাইপাস মোড় প্রভৃতি। এসব মোড় আল্লাহর উপর নির্ভর করে যানবাহনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হয়।
বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম জানান, কোনো অঞ্চলের উন্নয়নের সূচক সেই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। যোগাযোগ ব্যবস্থা যত ভাল, সেই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত সমৃদ্ধ। সেই তুলনায় উত্তরের জেলা লালমনিরহাট তলানিতে পড়ে আছে। যোগাযোগ উন্নয়ন বঞ্চিত একটি জেলার নাম লালমনিরহাট। লালমনিরহাট-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়কটি ফোর লেন করার। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এসে নেতারা প্রতিশ্রুতি দেয় ফোর লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় হয়েছে। এভাবে গড়িয়ে গেছে ২৮ বছর।লালমনিরহাট-বুড়িমারী ফোর লেন হয়নি। তিস্তা নদীর উপর নির্মাণ হয়েছে দুইটি সেতু। আওয়ামী লীগ সরকার রয়েছে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায়। এবার অন্তত ফোর লেন রাস্তাটি হবে বলে জনসাধারণ আশা করছেন। এবারে বুড়িমারী সড়কে ফোর লেন না করে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 










