
মো:সাদেকুল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় লালমনিরহাট জেলায় আখ চাষে পুনরুজ্জীবনের আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সরকারের দেশীয় চিনি কারখানা পুনরায় উৎপাদন মুখী করার সিদ্ধান্তের ফলে কৃষকরা আখ চাষে লাভের আশ্বাস পাচ্ছে।
গত কয়েক বছরে রংপুর অঞ্চলে আখ চাষ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। ২০২৩সালে রংপুরে আখ চাষ হয়েছিল ৩৬,৫০০ হেক্টর জমিতে, যা পূর্বের ৫০,০০০ হেক্টর জমির তুলনায় কম। সুগার মিল বন্ধের পর আখ চাষ ক্রমশ কমতে শুরু করে।
প্রতি হেক্টর জমি থেকে গড়ে ৫২ মেট্রিক টন আখ উৎপন্ন হয় এবং আখ থেকে ৪ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদিত হয়। প্রতি হেক্টর আখ উৎপাদন এবং গুড় উৎপাদনে খরচ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চর খারুয়া গ্রামের আখ চাষী মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টু। আখ চাষী ভুট্টু বলেন ছয় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি লাভজনক হওয়ায় আমার মত অনেক চাষী চাষাবাদ করেছে। খারুয়া ইটা পোতা মৌজার চাষী সেরাজুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে আখ চাষাবাদ করেছেন। এখানকার বড় চাষী আলম মিয়া আক্ষেপ করে বলেন আমি প্রতিবছর 20 থেকে 30 বিঘা জমির মধ্যে আখ চাষ করে থাকি। কিন্তু কৃষি বিভাগ থেকে অন্যান্য ফসলের প্রদর্শনী করলেও আখের এই চড়ে কোন প্রদর্শনী নেই। তার মত আখ চাষী রয়েছে এখানে ২০ জন। তাদের মধ্যে মহুবর রহমান জিয়ারুল ইসলাম মজিদুল ইসলাম আব্দুল কুদ্দুস অন্যতম। সকল চাষীদের অভিযোগ কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের কোন কিছু সহায়তা করা হয় নি। সরে জমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় মোস্তাফিজুর রহমান ভুট্টু পরিবারের সবাইকে নিয়ে ক্ষেতের মধ্যে গুড়মুটা করছেন।প্রতি কেজি গুর পাইকারি বিক্রি ১১০ থেকে ১২০ টাকা দোকানদারদের কাছে বিক্রি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা মুটা গুড়।টিন বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা। ১৮ টিন রস জাল করার পর গুর তৈরি হয় আড়াই টিন।
লালমনিরহাটের বিভিন্ন উপজেলায়, বিশেষ করে হাতীবান্ধা, আদিতমারী এবং কালীগঞ্জে আখ চাষ ব্যাপকভাবে চলে। আলম মিয়া (৪৫) বলেন, ‘আমরা বংশীয়ভাবে এখানে আখ চাষ করে থাকি। আমরা আশাহত হই নাই। আমরা এখনো নিয়মিতভাবে আখ চাষ করি। ইদানিং শোনা যাচ্ছে সরকার চিনি মিলগুলো চালু করে দিবে তো এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।’
জেলা কৃষি উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন আখ চাষ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা এবার আখ চাষে কৃষকদের বেশি উৎসাহ দিব। কারণ সরকার চিনি কলগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে সামনের মৌসুমে আখের একটি ব্যাপক চাহিদা লক্ষণীয়।’
আখ চাষের মাধ্যমে লালমনিরহাটের স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ছে। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় এবং চিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। উন্নত কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আখ চাষের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 










