Dhaka ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ, চালক ও হেলপারকে জরিমানা দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মশালা অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩ হাওরের শিক্ষায় যুগান্তকারী বদল, আসছে নতুন পরিকল্পনা নরসিংদীর মাধবদী হাটে কোটি টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, ৩ জনের জরিমানা কদমতলীতে আড়াই লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার ২ কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যা, ৭ জন গ্রেফতার নরসিংদীতে বাসে অভিযান, দেড় হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

সীমান্ত দিয়ে আসছে কোটি টাকার মাদক:মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

print news

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাজুড়ে মাদকের করালগ্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাটি যেন এখন মাদকের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভারতের আসাম সীমান্তের অন্তত ১৬টি পয়েন্ট এবং বাংলাদেশের রৌমারীর ২৪টি প্রবেশপথ দিয়ে আসছে কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। অথচ মাদকের মূল হোতারা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

জনগণের অভিযোগ, মাদক এখন রৌমারীতে সহজলভ্য। বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও মদ প্রতিনিয়তই প্রবেশ করছে সীমান্ত হয়ে। এসব মাদক রৌমারী থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এই মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন ও বেশ কয়েকটি রুট, যার অন্যতম হলো রৌমারী-ফলুয়ারচর নৌপথ।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, শৌলমারী ও যাদুরচরসহ অন্তত ২৫টির মতো এলাকা বর্তমানে মাদকের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এসব অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাদক গুদাম ও পাচার চক্র। স্থানীয়ভাবে আলোচিত কিছু নামও রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত। অনেকেই দাবি করছেন, থানা পুলিশের নীরব ভূমিকা এবং ‘ম্যানেজ’ করার সংস্কৃতি মূল হোতাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রাখছে।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুই-একজন ছোটখাটো কারবারিকে ধরলেই জনগণের চোখে ধুলা দেয়া হয়। কিন্তু বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে কখনোই ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।” অনেকে আবার বলেন, পেশাদার মাদক চক্র দিনমজুরদের ‘ট্রিপ’ পদ্ধতিতে মাদক বহনে ব্যবহার করছে। এক ট্রিপে পনেরো দিনের সমপরিমাণ টাকা পেয়ে যাচ্ছে অনেক দরিদ্র মানুষ।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের মধ্যে কেবল ইয়াবাই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার পিস। অন্যান্য মাদকের পরিমাণও নেহাত কম নয়। তাদের ভাষ্যমতে, সীমান্ত এলাকার দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৌশলী পাচার রুট নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

 

রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিদিনই অভিযান চলছে। কেউ যদি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করে থাকে, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”

এদিকে ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় পুশ-ইনের ঘটনাও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

 

তবে সাধারণ মানুষ বলছে ভিন্ন কথা। একদিকে প্রশাসনের “অবিরাম অভিযান” আরেকদিকে মাঠ পর্যায়ে মূল হোতাদের প্রকাশ্যে চলাফেরা — এই বৈপরীত্যই যেন প্রশ্ন তোলে, “আসলে কাকে রক্ষা করা হচ্ছে?”

 

রৌমারীতে মাদকের এই বিস্তার শুধুমাত্র একটি জেলার সমস্যা নয়। এটি পুরো দেশের ভবিষ্যতের ওপর এক অদৃশ্য হুমকি। এখনই সময়, কঠোর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রধান হোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের। না হলে এ সীমান্ত উপজেলা মাদকের রাজধানীতে রূপ নিতে আর সময় লাগবে না।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

সীমান্ত দিয়ে আসছে কোটি টাকার মাদক:মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

আপডেটের সময়: ০৬:১২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
print news

অনুসন্ধান ডেস্ক◾

 

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাজুড়ে মাদকের করালগ্রাসে আক্রান্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাটি যেন এখন মাদকের নিরাপদ করিডোরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ভারতের আসাম সীমান্তের অন্তত ১৬টি পয়েন্ট এবং বাংলাদেশের রৌমারীর ২৪টি প্রবেশপথ দিয়ে আসছে কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। অথচ মাদকের মূল হোতারা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

জনগণের অভিযোগ, মাদক এখন রৌমারীতে সহজলভ্য। বিশেষ করে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও মদ প্রতিনিয়তই প্রবেশ করছে সীমান্ত হয়ে। এসব মাদক রৌমারী থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এই মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন ও বেশ কয়েকটি রুট, যার অন্যতম হলো রৌমারী-ফলুয়ারচর নৌপথ।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, শৌলমারী ও যাদুরচরসহ অন্তত ২৫টির মতো এলাকা বর্তমানে মাদকের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এসব অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাদক গুদাম ও পাচার চক্র। স্থানীয়ভাবে আলোচিত কিছু নামও রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত। অনেকেই দাবি করছেন, থানা পুলিশের নীরব ভূমিকা এবং ‘ম্যানেজ’ করার সংস্কৃতি মূল হোতাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রাখছে।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুই-একজন ছোটখাটো কারবারিকে ধরলেই জনগণের চোখে ধুলা দেয়া হয়। কিন্তু বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে কখনোই ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।” অনেকে আবার বলেন, পেশাদার মাদক চক্র দিনমজুরদের ‘ট্রিপ’ পদ্ধতিতে মাদক বহনে ব্যবহার করছে। এক ট্রিপে পনেরো দিনের সমপরিমাণ টাকা পেয়ে যাচ্ছে অনেক দরিদ্র মানুষ।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের মধ্যে কেবল ইয়াবাই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার পিস। অন্যান্য মাদকের পরিমাণও নেহাত কম নয়। তাদের ভাষ্যমতে, সীমান্ত এলাকার দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং কৌশলী পাচার রুট নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

 

রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিদিনই অভিযান চলছে। কেউ যদি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করে থাকে, সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”

এদিকে ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসান জানান, সীমান্ত এলাকায় মাদক ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় পুশ-ইনের ঘটনাও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

 

তবে সাধারণ মানুষ বলছে ভিন্ন কথা। একদিকে প্রশাসনের “অবিরাম অভিযান” আরেকদিকে মাঠ পর্যায়ে মূল হোতাদের প্রকাশ্যে চলাফেরা — এই বৈপরীত্যই যেন প্রশ্ন তোলে, “আসলে কাকে রক্ষা করা হচ্ছে?”

 

রৌমারীতে মাদকের এই বিস্তার শুধুমাত্র একটি জেলার সমস্যা নয়। এটি পুরো দেশের ভবিষ্যতের ওপর এক অদৃশ্য হুমকি। এখনই সময়, কঠোর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রধান হোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের। না হলে এ সীমান্ত উপজেলা মাদকের রাজধানীতে রূপ নিতে আর সময় লাগবে না।