
মো:সাদেকুল ইসলাম,লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের মুসর দৌলজোর মদনপুর গ্রামের মোক্তার আলীর পুত্র শাহজালাল চাকরি করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। চাকরি করার সুবাদে মোছাম্মদ সাদিয়া আক্তার (২৩)এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ৩ বছর পূর্বে। মোসাম্মৎ সাদিয়া আক্তার পিতা মৃত আব্দুল বাসেত ভূঁইয়া গ্রাম তেলিয়া শিবপুর নরসিংদী। শাহজালাল মিয়াঁ দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে বউ সাদিয়াকে নিয়ে নরসিংদীতে থাকতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ মাস পূর্বে তার কোল জুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। এরপর পুত্র সন্তানসহ সাদিয়া তার স্বামীর বাড়ি লালমনিহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের মদনপুর এসে সংসার শুরু করেন। দীর্ঘদিন সংসার করার পর সাদিয়ার স্বামী শাহজালাল চাকরি করার সুবাদে স্বামীর বাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় নানাভাবে নির্যাতন করত। নির্যাতন সহ্য করেও সাদিয়া চেয়েছিলেন সংসার করতে কিন্তু এলাকার কিছু শক্তিশালী মহল বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে এক সন্তানের জননী সাদিয়াকে। এরপর সাদিয়া শশুর বাড়ী লালমনিরহাট থেকে নরসিংদী বাবার বাড়িতে চলে যান। সাদিয়ার সঙ্গে একান্ত আলাপ করলে জানা যায় আমি বাবার বাড়ি গেলেও আমার স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত আমার যোগাযোগ ছিল। আমি এরই মধ্যে আমার স্বামীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট গিয়ে একাধিকবার দেখা করেছি। এরই প্রেক্ষিতে আমার স্বামীর কথা মত গত১৪/১০/২৪ তারিখে আমার সন্তান সহ আমি শ্বশুর বাড়ি লালমনিরহাটে চলে আসি। আমার শ্বশুর বাড়িতে আশা মাত্রই আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার ওপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমার বাসায় আমাকে ঢুকতে নিষেধ করে। এরই প্রেক্ষিতে আমি আদিতমারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কে অবগত করি। আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন এলাকার কোন গণ্যমান্য লোকের কথা শুনতে রাজি নয়। অবশেষে সাররপুকুর ইউনিয়নের মদনপুর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি দের সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় মিলে আমার ও আমার একমাত্র সন্তানের। আমি এখানে আসার পূর্বে আমার স্বামী কে অবগত করে তারপর শ্বশুর বাড়িতে এসেছি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মসুর দৈলজোর উচ্চ বিদ্যালয় শালিশ ডাকলেও আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কেউ উপস্থিত হননি। এ প্রসঙ্গে সারপুকুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাজাহান আলী বলেন বিষয়টি জটিল হওয়ায় এক সন্তানের জননীর স্বামী সেনা কর্মকর্তা বাড়িতে না আসা পযন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আর্য বালা সহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মদনপুর এলাকার জালাল উদ্দিন বলেন আমরা চাই এই মেয়ের এখানেই সংসার হোক।স্কুল মাঠে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নূর মোহাম্মদ নুনু নবীর হোসেন চাঁদ মিয়া মিজান আলী আব্দুল মালেক সামিদুল হক মেম্বার আবুল কালাম প্রমুখ। সকলেই বলেন এই সন্তান যেন পিতৃ হারা না হয়। আমরা প্রয়োজনে এলাকা বাসী অসহায় এক সন্তানের জননী কে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
প্রতিবেদকের নাম 










