Dhaka ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য অনলাইন পদ্ধতি বাতিল:সরাসরি উপস্থিতিতে পাওয়া যাবে সাংবাদিক কার্ড নীলফামারী ৩ জলঢাকা আসনে ধানের শীষের পক্ষে লক্ষ মানুষের ঢল:প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সাধারণ জনগণ চট্টগ্রাম ১০ আসন: আমবাগান এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত মধ্যে সংঘর্ষ ভোটার প্রভাবিতের অভিযোগে নতুন বিতর্ক: বিকাশ–নগদ নম্বর দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধি পরিদর্শনে চট্টগ্রামে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক জামালগঞ্জে প্রকাশ্যে কৃষিজমির টপসয়েল লুট: আইন প্রয়োগে নীরব প্রশাসন জলঢাকায় জামায়াত কর্মীর বিএনপিতে যোগদান:ফুলের মালা ও ধানের শীষের চাদরে বরণ

স্বপ্নিল সৌন্দর্যে পর্যটকের মন কাড়ছে বর্ষার চলনবিল

◼️এস এম রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

 

বর্ষার প্রথম ফোঁটায় চলনবিল যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়; এক অপরূপ, স্বপ্নময় নীলাভূমিতে রূপান্তরিত হয় তার বিস্তৃত জলমণ্ডল। অতীতের সেই চলনবিল, যার নাম শুনলেই ভয়ের বেদনায় হৃদয় কাঁপত, আজ সে একই স্থান যেন প্রকৃতির অপরূপ শোভা ও রহস্যের মেলবন্ধন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঢেউ খেলানো উঠাল পাথরের ছন্দময় রং, আর দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলরাশির ছায়া মনের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা সৃষ্টি করত।

বর্ষাকালই চলনবিলের শ্রেষ্ঠ সময়, যখন গ্রীষ্মের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে প্রাণ ও রং এসে মেশে। বর্ষার আগমনকে কেন্দ্র করে চলনবিল পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়, বিশেষ করে ছুটির দিনে সেই ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময় চলনবিলের প্রকৃতি তার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তোলে।

যারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিপাসায় অতিষ্ট, তাঁরা বর্ষার এই মধুর সময়কেই বেছে নেন চলনবিলের অপার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগের জন্য। কারণ এই সময় বিলের পানির স্তর অপেক্ষাকৃত কম থাকে, নৌকাদুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে আসে, ফলে ভ্রমণকারীরা নিরাপদে জলস্রোতের মাঝেও সোহাগে মগ্ন হতে পারেন। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই জলজ নীলাভূমির প্রতি।

বর্ষার সময় চলনবিল পাড়ের প্রত্যেক বাড়ির সামনে নৌকা ঘাট বিরাজমান থাকে। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। কারণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতের সহজ উপায় অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

চলনবিলের নৌকা প্রধানত দুই প্রকারের- এক হলো ঠেলা বা ডিঙ্গি নৌকা, আর অন্য হলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা। সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রার জন্য ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহৃত হয়, আর দীর্ঘপথে যাতায়াতের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই সেরা সঙ্গী। বর্ষার শুরুতেই এই জলময় প্রান্তরে বিশাল বিশাল জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নৌকার পাল উড়ে যায় ধীরে ধীরে বাতাসের বুকে। সাদা বকপাখিদের ঝাঁক মেলে ডানা ফেলে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মেলায় প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব সমন্বয়।

সারা শরীর ও মন রিমঝিম বর্ষার নরম হাওয়ায় ভাসমান এই চলনবিলের সৌন্দর্য দর্শন করে, প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে এক অম্লান স্নেহে। এভাবেই চলনবিলের অমৃত রূপ বর্ষার আলোয় আরও বেশি আকর্ষণীয়, চিরস্মরণীয় ও মুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নারী ‘শিল্পী’র বিশাল মাদক সাম্রাজ্য

স্বপ্নিল সৌন্দর্যে পর্যটকের মন কাড়ছে বর্ষার চলনবিল

আপডেটের সময়: ০৮:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

◼️এস এম রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

 

বর্ষার প্রথম ফোঁটায় চলনবিল যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়; এক অপরূপ, স্বপ্নময় নীলাভূমিতে রূপান্তরিত হয় তার বিস্তৃত জলমণ্ডল। অতীতের সেই চলনবিল, যার নাম শুনলেই ভয়ের বেদনায় হৃদয় কাঁপত, আজ সে একই স্থান যেন প্রকৃতির অপরূপ শোভা ও রহস্যের মেলবন্ধন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঢেউ খেলানো উঠাল পাথরের ছন্দময় রং, আর দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলরাশির ছায়া মনের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা সৃষ্টি করত।

বর্ষাকালই চলনবিলের শ্রেষ্ঠ সময়, যখন গ্রীষ্মের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে প্রাণ ও রং এসে মেশে। বর্ষার আগমনকে কেন্দ্র করে চলনবিল পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়, বিশেষ করে ছুটির দিনে সেই ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময় চলনবিলের প্রকৃতি তার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তোলে।

যারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিপাসায় অতিষ্ট, তাঁরা বর্ষার এই মধুর সময়কেই বেছে নেন চলনবিলের অপার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগের জন্য। কারণ এই সময় বিলের পানির স্তর অপেক্ষাকৃত কম থাকে, নৌকাদুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে আসে, ফলে ভ্রমণকারীরা নিরাপদে জলস্রোতের মাঝেও সোহাগে মগ্ন হতে পারেন। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই জলজ নীলাভূমির প্রতি।

বর্ষার সময় চলনবিল পাড়ের প্রত্যেক বাড়ির সামনে নৌকা ঘাট বিরাজমান থাকে। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। কারণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতের সহজ উপায় অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

চলনবিলের নৌকা প্রধানত দুই প্রকারের- এক হলো ঠেলা বা ডিঙ্গি নৌকা, আর অন্য হলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা। সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রার জন্য ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহৃত হয়, আর দীর্ঘপথে যাতায়াতের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই সেরা সঙ্গী। বর্ষার শুরুতেই এই জলময় প্রান্তরে বিশাল বিশাল জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নৌকার পাল উড়ে যায় ধীরে ধীরে বাতাসের বুকে। সাদা বকপাখিদের ঝাঁক মেলে ডানা ফেলে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মেলায় প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব সমন্বয়।

সারা শরীর ও মন রিমঝিম বর্ষার নরম হাওয়ায় ভাসমান এই চলনবিলের সৌন্দর্য দর্শন করে, প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে এক অম্লান স্নেহে। এভাবেই চলনবিলের অমৃত রূপ বর্ষার আলোয় আরও বেশি আকর্ষণীয়, চিরস্মরণীয় ও মুগ্ধকর হয়ে ওঠে।