Dhaka ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় মানববন্ধন: অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারার দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারিদের বাড়িতে লাল চিহ্ন দেওয়ার হুঁশিয়ারি জেলা পুলিশের ইউপি নির্বাচন, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের জামায়াত নেতা বুলবুল আহমাদ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আফজল হুসাইনের মানবসেবার স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরির দাবি কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন: সভাপতি জসিম উদ্দিন, সম্পাদক নাজিম উদ্দীন নরসিংদীর পলাশে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের বিশেষ দিকনির্দেশনা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর উত্তরা পশ্চিম থানার অভিযান, ১১ আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৬

স্বপ্নিল সৌন্দর্যে পর্যটকের মন কাড়ছে বর্ষার চলনবিল

print news

◼️এস এম রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

 

বর্ষার প্রথম ফোঁটায় চলনবিল যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়; এক অপরূপ, স্বপ্নময় নীলাভূমিতে রূপান্তরিত হয় তার বিস্তৃত জলমণ্ডল। অতীতের সেই চলনবিল, যার নাম শুনলেই ভয়ের বেদনায় হৃদয় কাঁপত, আজ সে একই স্থান যেন প্রকৃতির অপরূপ শোভা ও রহস্যের মেলবন্ধন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঢেউ খেলানো উঠাল পাথরের ছন্দময় রং, আর দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলরাশির ছায়া মনের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা সৃষ্টি করত।

বর্ষাকালই চলনবিলের শ্রেষ্ঠ সময়, যখন গ্রীষ্মের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে প্রাণ ও রং এসে মেশে। বর্ষার আগমনকে কেন্দ্র করে চলনবিল পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়, বিশেষ করে ছুটির দিনে সেই ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময় চলনবিলের প্রকৃতি তার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তোলে।

যারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিপাসায় অতিষ্ট, তাঁরা বর্ষার এই মধুর সময়কেই বেছে নেন চলনবিলের অপার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগের জন্য। কারণ এই সময় বিলের পানির স্তর অপেক্ষাকৃত কম থাকে, নৌকাদুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে আসে, ফলে ভ্রমণকারীরা নিরাপদে জলস্রোতের মাঝেও সোহাগে মগ্ন হতে পারেন। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই জলজ নীলাভূমির প্রতি।

বর্ষার সময় চলনবিল পাড়ের প্রত্যেক বাড়ির সামনে নৌকা ঘাট বিরাজমান থাকে। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। কারণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতের সহজ উপায় অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

চলনবিলের নৌকা প্রধানত দুই প্রকারের- এক হলো ঠেলা বা ডিঙ্গি নৌকা, আর অন্য হলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা। সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রার জন্য ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহৃত হয়, আর দীর্ঘপথে যাতায়াতের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই সেরা সঙ্গী। বর্ষার শুরুতেই এই জলময় প্রান্তরে বিশাল বিশাল জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নৌকার পাল উড়ে যায় ধীরে ধীরে বাতাসের বুকে। সাদা বকপাখিদের ঝাঁক মেলে ডানা ফেলে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মেলায় প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব সমন্বয়।

সারা শরীর ও মন রিমঝিম বর্ষার নরম হাওয়ায় ভাসমান এই চলনবিলের সৌন্দর্য দর্শন করে, প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে এক অম্লান স্নেহে। এভাবেই চলনবিলের অমৃত রূপ বর্ষার আলোয় আরও বেশি আকর্ষণীয়, চিরস্মরণীয় ও মুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

স্বপ্নিল সৌন্দর্যে পর্যটকের মন কাড়ছে বর্ষার চলনবিল

আপডেটের সময়: ০৮:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এস এম রুহুল তাড়াশী–চলনবিল

 

বর্ষার প্রথম ফোঁটায় চলনবিল যেন পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়; এক অপরূপ, স্বপ্নময় নীলাভূমিতে রূপান্তরিত হয় তার বিস্তৃত জলমণ্ডল। অতীতের সেই চলনবিল, যার নাম শুনলেই ভয়ের বেদনায় হৃদয় কাঁপত, আজ সে একই স্থান যেন প্রকৃতির অপরূপ শোভা ও রহস্যের মেলবন্ধন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঢেউ খেলানো উঠাল পাথরের ছন্দময় রং, আর দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা জলরাশির ছায়া মনের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা সৃষ্টি করত।

বর্ষাকালই চলনবিলের শ্রেষ্ঠ সময়, যখন গ্রীষ্মের নিস্তব্ধতা ভেঙে সেখানে প্রাণ ও রং এসে মেশে। বর্ষার আগমনকে কেন্দ্র করে চলনবিল পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়, বিশেষ করে ছুটির দিনে সেই ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। এই সময় চলনবিলের প্রকৃতি তার সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর রূপ ফুটিয়ে তোলে।

যারা প্রকৃতির সৌন্দর্যের পিপাসায় অতিষ্ট, তাঁরা বর্ষার এই মধুর সময়কেই বেছে নেন চলনবিলের অপার প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী উপভোগের জন্য। কারণ এই সময় বিলের পানির স্তর অপেক্ষাকৃত কম থাকে, নৌকাদুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে আসে, ফলে ভ্রমণকারীরা নিরাপদে জলস্রোতের মাঝেও সোহাগে মগ্ন হতে পারেন। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই জলজ নীলাভূমির প্রতি।

বর্ষার সময় চলনবিল পাড়ের প্রত্যেক বাড়ির সামনে নৌকা ঘাট বিরাজমান থাকে। গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে ওঠে নৌকা। কারণ রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যাতায়াতের সহজ উপায় অন্য কোনো বিকল্প থাকে না।

চলনবিলের নৌকা প্রধানত দুই প্রকারের- এক হলো ঠেলা বা ডিঙ্গি নৌকা, আর অন্য হলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা। সংক্ষিপ্ত দূরত্বের যাত্রার জন্য ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহৃত হয়, আর দীর্ঘপথে যাতায়াতের জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোই সেরা সঙ্গী। বর্ষার শুরুতেই এই জলময় প্রান্তরে বিশাল বিশাল জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে নৌকার পাল উড়ে যায় ধীরে ধীরে বাতাসের বুকে। সাদা বকপাখিদের ঝাঁক মেলে ডানা ফেলে উড়ে যাওয়ার দৃশ্য মেলায় প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব সমন্বয়।

সারা শরীর ও মন রিমঝিম বর্ষার নরম হাওয়ায় ভাসমান এই চলনবিলের সৌন্দর্য দর্শন করে, প্রকৃতি প্রেমীদের হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে এক অম্লান স্নেহে। এভাবেই চলনবিলের অমৃত রূপ বর্ষার আলোয় আরও বেশি আকর্ষণীয়, চিরস্মরণীয় ও মুগ্ধকর হয়ে ওঠে।