Dhaka ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭ সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদী রক্ষায় মানববন্ধন: অবৈধ বালু লুটপাট বন্ধ ও ইজারার দাবি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারিদের বাড়িতে লাল চিহ্ন দেওয়ার হুঁশিয়ারি জেলা পুলিশের ইউপি নির্বাচন, চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের জামায়াত নেতা বুলবুল আহমাদ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত আফজল হুসাইনের মানবসেবার স্বীকৃতি ও সরকারি চাকরির দাবি কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি বিএমএসএফ কক্সবাজার জেলা কমিটি গঠন: সভাপতি জসিম উদ্দিন, সম্পাদক নাজিম উদ্দীন নরসিংদীর পলাশে সরকারি সেবার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসকের বিশেষ দিকনির্দেশনা ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর উত্তরা পশ্চিম থানার অভিযান, ১১ আইফোন ও স্বর্ণালংকারসহ গ্রেফতার ৬

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৭

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

আপডেটের সময়: ১১:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”