
মোঃ নাজমুল- আন্তর্জাতিক ডেস্ক◾
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কথামতো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সহযোগিতা করে, তাহলে তারা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
বুধবার (১৮ জুন) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে এসব কথা বলেন খামেনি। এর আগে ইসরায়েল ভোররাতে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়, যার জবাবে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। এই পটভূমিতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা জানি খামেনি কোথায় আছেন, তবে এখনই তাকে হত্যা করবো না।”
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, “এই জাতি কখনোই মাথানত করবে না। ইরানি জাতি হুমকির সামনে মাথা নত করতে জানে না।” তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য এবং আক্রমণাত্মক” বলেও অভিহিত করেন।
খামেনি বলেন, “আমেরিকানদের মনে রাখা উচিত, যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপের পরিণতি হবে ভয়াবহ ও অপূরণীয়।” তিনি বলেন, “যাঁরা ইতিহাস জানেন, তাঁরা জানেন—ইরানিরা কোনো হুমকিকে কখনোই গুরুত্ব দেয় না।”
আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের পেছনে যে ব্যক্তির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তিনি হচ্ছেন আয়াতুল্লাহ খামেনি। প্রায় চার দশক ধরে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর শাসনামলে ইরান শিয়া-অধ্যুষিত একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি তীব্র বৈরিতা বজায় রেখেছে তেহরান।
দেশের ভেতরে একাধিক গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হলেও তিনি বরাবরই তা কঠোর হাতে দমন করেছেন। খামেনির ভাষ্য মতে, দেশীয় অস্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক হুমকি মোকাবিলায় ইরানি জাতির ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বক্তব্য শুধু প্রতিরোধের বার্তা নয়, বরং পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 

























