
◼️মোহাম্মদ সান-মেহেরপুর
মেহেরপুরের লাইফ কেয়ার ডি ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে রাশিয়া খাতুন (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে জেনারেল হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত বেসরকারি এ হাসপাতালে।
নিহত রাশিয়া খাতুন মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মীরপাড়ার কাবাদুল ইসলামের স্ত্রী। অপারেশনের পরপরই মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন স্বজনরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবস্থানের পর স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে রাশিয়া খাতুনের একটি হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সেখানে রড বসানো হয়। দীর্ঘদিন পর হাতটি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে রডটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসক মনজুর উল আলমের তত্ত্বাবধানে ৪০ হাজার টাকার চুক্তিতে শুক্রবার সকালে অপারেশনের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় রাশিয়া খাতুনকে। অপারেশনের আগে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয় এবং পরে রোগীকে অজ্ঞান করা হয়। কিন্তু এরপর আর জ্ঞান ফেরেনি তার।
রাশিয়ার ছেলে রাসেল অভিযোগ করে বলেন, “অপারেশনের পর হঠাৎ করেই তারা আমাকে ডেকে বলে মাকে দ্রুত কুষ্টিয়ায় নিতে হবে। তারা নিজেদের গাড়িতে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও আমি আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে নিয়ে রওনা দিই। কিন্তু শহরের ওয়াপদা মোড় পার হতেই বুঝতে পারি মা আর নেই। পরে গাংনী হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজিতে দেখা যায় মা এক ঘণ্টা আগেই মারা গেছেন। এর মানে হলো, মৃত অবস্থাতেই তাকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে লাইফ কেয়ার ডি ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও হাসপাতাল বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি শান্ত থাকে। যদি পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আসে, তবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার সময় নিহতের পরিবারের পাশে ছিলেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আহসান হাবিব সোনা, সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় মেহেরপুরের স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















